গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিরোধী যেকোনো দেশী-বিদেশী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী দেশী-বিদেশী যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা পাবনায় চার দিনব্যাপী সফরের তৃতীয় দিনে আজ সকালে 'পাবনা ডায়াবেটিক সমিতি' পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান সামনের দিনগুলোতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সকল রকম ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার অনুরোধ জানান।
"জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস" উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সকল অপশক্তিকে প্রতিহত করবেন এবং তাদেরকে মাথা উঁচু করার কোন সুযোগ দিবেন না।"
গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গণতন্ত্র যাতে তমসাচ্ছন্ন না হয়; কোন অশুভ শক্তি যেন এখানে ভর করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে আশা-ভরসা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাহলেই, এই দেশ বিনির্মাণে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আইনানুযায়ী একটা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।"
একসময় বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন হয়েছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বর্তমানে "অনির্বাচিত সরকারের অধীনে কোন রকম নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। দেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।"
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে পাবনার ডায়াবেটিক সমিতি পরিদর্শনে এসে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বেলা পৌনে ১২টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডস্থ ডায়াবেটিক সমিতিতে প্রবেশ করেন। প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সমিতির চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। এসময় রাষ্ট্রপতি সমিতি প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের বিধান আদালত বাতিল করেছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন কমিশন নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। রাজনীতির নামে কেউ হানাহানি সৃষ্টি করবেন না।
পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এমপি, পাবনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মনোয়ারুল আজিজ।
বক্তারা রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে পাবনা ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়নে তার অতীত অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি পাবনার অন্যতম স্মৃতিময় আড্ডাস্থল পাবনা ডায়াবেটিক সমিতি পরিদর্শন করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি সমিতির চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী অবস্থানের পর দুপুর ২টা টার সমিতি থেকে বের হয়ে সার্কিট হাউজে বিশ্রামে রয়েছেন। চার দিনের সফরের তৃতীয় দিন বুধবার বিকেল ৪টায় পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল উদ্বোধন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ৫টার দিকে জুবলি ট্যাঙ্কের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিনোদন পার্ক পরিদর্শন করবেন।
এর আগে সোমবার (১৫ মে) সকাল ১২টা ৮ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে নিজ জেলা পাবনায় এসে পৌঁছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর পাবনা সার্কিট হাউজে উপস্থিত হয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর দুপুর দেড়টায় জেলা পরিষদ বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের নাম ফলক উদ্বোধন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুইটার দিকে পাবনা সদর আরিফপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি স্কয়ার বাগানবাড়িতে পারিবারিক সমাধিস্থলে উপস্থিতি, পুষ্প অর্পণ এবং প্রার্থনায় অংশ নিয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ করে সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে বেলা ১১টার দিকে পাবনার বিসিক শিল্পনগরীতে স্কয়ার সায়েন্স অ্যান্ড লাইফ প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে দুপুর ১২টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বিকেলে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ঢাকা-পাবনা ট্রেন চলাচলের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক জীবন ও জাতীয় ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার নবিরুল ইসলাম সাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী জানা গেছে, ১৮ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।