প্রকাশ: সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩, ৭:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
চিকিৎসক ও নার্সদের অসহযোগিতায় শ্বাসকষ্টের রোগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের মাঝ দক্ষিণা গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন (১৯)।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর প্রায় ৬০ বছর বয়সী বাবা মজিবুর রহমান কে নিয়ে তাড়াশ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আসেন। পরে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক রোগীকে ভর্তি করেন। পাশাপাশি রোগী মজিবুর রহমান কে নেবুলাইজার করার ব্যবস্থা পত্র দেন। এরপর মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে পুরুষ ওয়ার্ডে নিয়ে যান। তারপর ববস্থা পত্রটি দায়িত্ব প্রাপ্ত নার্সদের দিলে এ সময় দায়িত্বরত নার্স শারমিন খাতুন, আমিনা খাতুন ও রেখা খাতুন নিজেরা না এসে হাসপাতালের কর্তব্যরত আয়াকে নেবুলাইজার করার জন্য পাঠান। যথারীতি আয়া নেবুলাইজার মেশিনে ঔষধ ঢেলে দিয়ে মজিবুর রহমানের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনের হাতে মাস্ক ধরিয়ে দিয়ে তিনিও সটকে পড়েন। বিপাকে পড়ে যান রোগীর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন।
অভিযোগ করে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নেবুলাইজার করার কোন অভিজ্ঞতা নেই আমার। তবুও বাবাকে বাঁচাতে নেবুলাইজার নিজেই ধরেছিলাম প্রায় আধা ঘন্টা। কিন্তু বাবার অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়েন। নার্সদের কাছে ছুটাছুটি করলেও দায়িত্বরত নার্সরা তখন ছিলেন গল্পে মশগুল। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের ফোন করলে তাঁরা আমার বাবাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন। বাবাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স খোঁজ করলে জানা যায় এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার অসুস্থ এবং তিনি ছুটিতে আসেন। বাধ্য হয়ে আমি জাতীয় সেবা ৯৯৯ ফোন করলে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এ্যাম্বুলেন্স আসে। তারপর আমার বাবাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের পথে রওনা দেই।
এ বিষয়ে তাড়াশ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সের চালক আব্দুল মমিন জানান, আমি অসুস্থ এবং ছুটিতে আছি। তবে অন্য নিরব নামে একজন আউর্সোসিং চালক রয়েছে। তবে তিনি শুধু স্যারের গাড়ি চালান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স আরিফুল ইসলাম বলেন, চা পান করতে আমি বাহিরে আছি। বিষয়টি জেনে তারপর আমি জানাবো।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।