নতুন উচ্চতায় প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আমিরাত 

  • ২৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১২:০২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::
 
জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে গত বুধবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যপ্রাচ্যের ধনাঢ্য এই দেশটি সফরের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পেছনে দেশটির অনেক অবধান রয়েছে। বিশেষ করে সে দেশে জনশক্তি  রফতানি করে বাংলাদেশ আরব আমিরাতের অবকাঠামোর উন্নয়নে যেমন শরিক হতে পেরেছে পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তারই ধারাবাহিতায় দেশটিতে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি এবার বাংলাদেশে ধনাঢ্য আরব দেশটির বিপুল বিনিয়োগেরও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আমিরাতের শাসক ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ঔদাত্ত আহ্বান জানান। তার এ আহ্বানে সাড়া দেন আমিরাত নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই ধনাঢ্য দেশটি। পাশাপাশি শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকেও তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন, শ্রমবাজার এবং বিনিয়োগের বিষয়টি তিনি নিজে দেখবেন।

বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহও দেখিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। রয়্যাল প্যালেসে ক্রাউন প্রিন্স নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় তাকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর আবুধাবি সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি উপহার দেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। দুই দেশের সম্পর্কের সূচনা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের মধ্যে যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছিল তার সাক্ষ্য বহন করছে ছবিটিতে। ছবিটি হাতে পেয়ে ক্রাউন প্রিন্স আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এখন এই আবেগকে কী করে দুটো দেশের মধ্যে আরো নিবিড় বন্ধনে নিয়ে আসা যায় সেই পথ দেখতে হবে।

দুই দেশের সম্পর্ক আরো আন্তরিক হলে বিশেষত বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে তাতে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে আমরা বিশ^াস করি। বর্তমানে বিশে^র কোনো দেশই এককভাবে উন্নতি করতে পারে না। এ জন্য দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন অতীব জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে আশা করা যায় দুটো দেশই কাক্সিক্ষত গন্তব্য খুঁজে পাবে।

Ads
Ads