আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব

  • ১৪-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে তিতাসসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন এই প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর আগামী মাসে দাম বৃদ্ধির ওপর গণশুনানি করার পরিকল্পনা করছে বিইআরসি।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে সরকার। জাতীয় নির্বাচনের কারণে সরকার তখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ধারণা করা হয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়লে বাসাবাড়িতে এক বার্নারের চুলার বিল ৭৫০ থেকে বেড়ে হবে ১০০০ টাকা। দুই বার্নার চুলার বিল ৮০০ থেকে বেড়ে হবে ১২০০ টাকা। এছাড়া দাম বাড়বে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি, শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়তে পারে বিদ্যুৎ, সার ও সিএনজি গ্রাহকদের।

গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করেছে সরকার।

প্রতি ইউনিট ৩২ টাকা দরে আমদানি করে ওই গ্যাস সাত টাকা ১৭ পয়সা দরে বিক্রি করার কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে বলে জানা যায়।

বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজাম শরীফুল ইসলাম জানান, পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছেন। প্রস্তাবনায় তারা সব ধরনের গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন।

জ্বালানি বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অনেক বেশি। আর দেশে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন।

এ হিসাবে চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি আমদানি করতে হলে সরকারকে আরও অনেক বেশি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। কাজেই গ্যাসের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিইআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে তারা বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেয়েছেন। আগামী মাস থেকে তারা এ লক্ষ্যে গণশুনানির আয়োজন করতে পারেন। এরপর মে থেকে দাম কার্যকর করা হতে পারে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের পর আগস্টে বাংলাদেশ এলএনজি যুগে প্রবেশ করে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে ওই টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেয়া হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করে এতদিন ভর্তুকি দিয়ে সরকার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এ ভর্তুকি কমাতে সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

/কে 

Ads
Ads