সরস্বতী পূজা রোববার

  • ১০-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাণী অর্চনা, বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রীসরস্বতী পূজা রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসবে পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন অগণিত ভক্ত। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। বিদ্যার দেবী হওয়ায় শিক্ষার্থীরাই এ উৎসব পালন করে থাকে বেশি। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বেশি সরস্বতীর আরাধোনা করা হয়ে থাকে।

তবে পঞ্জিকা মতে পঞ্চমী তিথি আজ সকাল থেকে শুরু হওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যেই পূজা শুরু করার বাধ্যবাধকতা আছে।

তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপ, পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিদ্যার দেবীর বন্দনায় প্রস্তুত সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। 

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।’

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিনি দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সরস্বতী পূজা বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় উৎসব। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়-নির্বিশেষে এই উৎসবে সবার অংশগ্রহণ এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও ঐতিহ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে সবাইকে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। আবহমানকাল ধরে এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করেছেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। পারস্পরিক এ সম্প্রীতি সামনের দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রণতি জানাবেন তারা।

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালায় আছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি।

 

/কে 

Ads
Ads