বন্ধুদের নিয়ে একাডেমি চালাবেন কাজী সালাউদ্দীন

  • ১৪-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:৫৯
Ads

Enter Description Here ...

বাংলাদেশের একটি ফুটবল একাডেমি নেই, বিষয়টি হাস্যকর বটে। কিন্তু ফুটবল উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক এই বিষয়টি নিয়ে ফুটবল ফেডারেশন যে একদমই ভাবে না, তা নয়। মাঝে মধ্যেই কুম্ভকর্ণের মতো ঘুম থেকে জেগে ওঠে নিজেদের একাডেমি বানানোর স্বপ্নের কথা জানায় বাফুফে। আবার একাডেমি নিয়ে আশার পালে হাওয়া লাগাচ্ছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

টানা চারবার সাফ ফুটবলের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবার সাফে ব্যর্থ হওয়ার পরেই ফুটবল বোদ্ধাদের মুখে একাডেমি না থাকার আক্ষেপ শোনা যায়। কারণ প্রতিবেশী দেশগুলো একাডেমি নির্মাণ করে দুর্দান্ত সব ফুটবল প্রতিভা তুলে এনে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। মালদ্বীপকে ৮ গোল দেওয়ার রেকর্ডের কথা সবার মনে আছে। সময়ের পালা বদলে মালদ্বীপের কাছে এখন ৫ গোল হজম করে বারবার সে স্মৃতি ফিরিয়ে আনে দল। মালদ্বীপের মতো ছোট দেশেও একাডেমি আছে ছয়টি, নেপালে আছে একটি, ভুটানে আছে দুটি, আর ২৮টি এলিট একাডেমি আছে ভারতে। এমনি এমনি তো আর বিশ্ব ফুটবলে ভারতের অবস্থান ৯৬তে আসেনি। এশিয়ান কাপ ফুটবলে থাইল্যান্ডকে ৪-১ গোলে উড়িয়েও দিয়েছে তাঁরা। এর বেশির ভাগ কৃতিত্বই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের একাডেমিগুলোর।

অথচ বাংলাদেশে একটিও একাডেমি নেই। একাডেমির জন্য ফিফা বাংলাদেশকে ৭ লাখ ডলার দিয়েছিল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সিলেট বিকেএসপিতে ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর পাঁচ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে একাডেমি উদ্বোধন করলেও সেটা চলেনি এক বছরও। এর পর তো আর একাডেমি নিয়ে কথা বলতেই নারাজ ছিলেন বাফুফে সভাপতি। প্রায় চার বছর পরে আবার তাঁর মুখে একাডেমি। তাঁর এই আশার পালে হাওয়া দিয়েছে ফর্টিস গ্রুপ। বাড্ডার বেরাইদে ফর্টিস গ্রুপের বিশাল একখণ্ড সবুজ মাঠ আছে। প্রায় ৪০ বিঘা জায়গা, দুটি বড় মাঠ হয়। আধুনিক পানিনিষ্কাশন, ফ্লাডলাইটসহ সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই আছে।

ফর্টিস গ্রুপকে পাশে পেয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিজে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন। বাদল রায়ের স্থলে ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে একাডেমি চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ফিফার সাহায্য দিয়ে একাডেমি সিলেটে যত দিন চলেছে চালিয়েছে। আর্থিক কারণে এরপর চালানো যায়নি। এখন যেটি করব তা প্রাথমিক আমি, আমার বন্ধু-বান্ধব-সহকর্মীদের সাহায্যে চালাব; যত দিন না স্পনসর পাওয়া যায়।’

একাডেমিতে কয় জন খেলোয়াড় থাকবে, তাদের জন্য কয় জন কোচিং স্টাফ, তারা দেশি না বিদেশি—এ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য কিছুদিন সময় চেয়েছেন সালাউদ্দীন, ‘খেলোয়াড় ১২ জন হতে পারে আবার ৫২ জনও হতে পারে। এটা নির্ভর করে কোয়ালিটির ওপর। এক মাস লাগবে একাডেমি প্রস্তুত হতে। এর মধ্যে ফর্টিস গ্রাউন্ডের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হবে, অন্যান্য বিষয়ও গুছিয়ে ফেলব। সব ঠিকঠাক করে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওখানে আমরা ফুটবলার উঠিয়ে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করতে পারব।’

বাফুফে কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ফুটবলে অন্যতম সমস্যা অর্থ। আর্থিক জোগান আসবে কোথা থেকে? ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আমরা কী করি আর কী করতে পারব সেগুলো বলব। তারা সেগুলো পর্যালোচনা করার পর আবার আলোচনায় বসব। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাহায্যের প্রয়োজন হলে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করব।’ বলেন সালাউদ্দীন।

এ ছাড়া কয়েক দিন আগে আবুধাবিতে জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনে কর্মকর্তা প্রিন্স আলীর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন বাফুফে সভাপতি। একাডেমির জন্য জর্ডানের সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখন দেখা যাক একাডেমি গড়তে পারে কি না বাফুফে। এক একাডেমি নিয়ে নাটক তো আর কম হয়নি।

Ads
Ads