মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা: ফাঁকিবাজ ডাক্তারদের ছাড় নয়

  • ২৯-জানুয়ারী-২০১৯ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এবার সরকারি হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে একটি কড়া বার্তা দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে তিনি চিকিৎসকদের বলেন, ‘যে ডাক্তার জেলায় যাবে না তার দরকার নেই’। এতে তিনি তাদের উদ্দেশে আরো স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সেরকম হলে তারা যেন চাকরি ছেড়ে দেয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে শতভাগ সমর্থন করি। বিগত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম থাকাকালে এই মন্ত্রণালয় কীরকম দুর্নীতির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠেছিল তা তার অবর্তমানে এখন একে একে গণমাধ্যমে উঠে আসছে। মন্ত্রী থাকাকালে ওই মন্ত্রী অনেক বড় বড় বুলি আওড়াতেন। কিন্তু এখন আমরা দেখছি তার ওই বড় বড় বুলির অন্তরালে এই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় কীরকম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদারতার সুযোগ নিয়ে তারা এতোই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে, তারা রোগীকে আর মানুষ মনে করছে না। ইতরভাষাসহ যথেচ্ছ ব্যবহার করছে তারা। তাদের মন পড়ে থাকে শুধু প্রাইভেট হসপিটালগুলোর দিকেই। আর নার্সরা সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সরিয়ে বাইরে বেচে দেওয়ার অভিযোগতো ভুরি ভুরি।

ডাক্তারদের গ্রামে পোস্টিং হলে সেখানে যোগ দিয়েই আবার ফিরে আসে শহরে। চুটিয়ে ব্যবসা করে। সাধারণ মানুষই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে আসছে নিয়মিত। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে মো. নাসিম এসব দুর্নীতির কথা জেনেশুনেও না জানার ভান করতেন। কোনো ব্যবস্থা নিতেন না। সেবা নয়, আসলে রাজনীতিই তার সকল ধ্যানজ্ঞান। সে রাজনীতিও সেবামূলক নয়। ফলে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়কেও এরকম সেবাহীন রাজনীতির আখড়া বানিয়ে ফেলেন। আর এই রাজনীতির সুযোগ নিয়েই ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা ফেলে তাদের আখের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনকি এদের রোখার জন্য বায়োমেট্রিক যন্ত্র বসিয়েও চিকিৎসকদের মাঠে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। কর্মস্থলে রাখা যায়নি ফাঁকিবাজ চিকিৎসকদের। এভাবে তারা জনগণকে সেবা থেকে বঞ্চিত রেখেও বেতন তুলছেন নিয়মিত আবার বাইরে চিকিৎসা ব্যবসা করেও বিপুল টাকা উপার্জন করে গাড়ি বাড়ি বিত্ত বৈভব গড়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অভিযানের পরও বিষয়টি বেশ জোরালো হয়ে ওঠে। দুদকের মতে, প্রায় ৪০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনেও উঠে আসে এমন চিত্র। জানা যায়, ২০১৪ সালে সরকার একযোগে যে ছয় হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে গ্রামে পোস্টিং দিয়েছিল তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশই দুই বছর না যেতেই গ্রামছাড়া হয়েছিলেন। এখনো সেই একই বলয়ে ঘুরছে গ্রামের স্বাস্থ্যসেবা। এখন প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, যারা গ্রামে যাবে না, তাদের চাকরি ছেড়ে দিতে, সেটাকে বাধ্যতামূলক করা যায় কিনা সেটাও ভাবতে হবে।

কেননা, কথায় বলে, একবার যার সরকারি চাকরি হয়, সে চাকরি সহজে আর যায় না। এখন এসব নিয়ম-কানুনে কোনো পরিবর্তন আনা যায় কি-না তা ভেবে দেখতে হবে। নয়তো তারা চাকরি যায় না বলেই এই যথেচ্ছ কাজ করে যেতেই থাকবে। এমনকি দেখা যায় কারো চাকরি যদি কোনো গুরুতর কারণে চলেও যায়, ওএসডি হয় তারপরও তার চাকরি ফিরে পায়, যদি সরকার বদল হয়। এ জন্যই তারা এতো বেপরোয়া হয়ে ওঠার সাহস পায়। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। কাজেই তাদের রোখার জন্য ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেড়ো’ নয়- এমন কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে যাতে তারা আর কখনোই গ্রাম পালাতে সাহস না পায়।      
 

Ads
Ads