কপাল পুড়ছে ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী রমিজ সরকারের

  • ২৭-জানুয়ারী-২০১৯ ০২:১৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থাগুলোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ে ভোরের পাতার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের থাকছে আজ প্রথম পর্ব। এক্ষেত্রে সবার আগেই কপাল পুড়তে যাচ্ছে ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সরকারি কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকারের। 

তার নামে ‘বিপুল পরিমাণ’ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়ার দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, রমিজ উদ্দিনের নামে ঢাকায় পাঁচটি বাড়ি, গাজীপুরে ৩০ একর জমি এবং তার জন্মভূমি কুমিল্লাতে কয়েক একর জমি রয়েছে।

এছাড়া তার স্ত্রী সালাম পারভীনের নামেও কুমিল্লায় কয়েক একর জমির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ‘বড় অঙ্কের’ অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকার ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকার এই প্রেক্ষাপটে রমিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে।
রোববার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত নোটিসে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে বলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রমিজ উদ্দিনের নামে রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়কে সাত তলা একটি বাড়ি আছে। এছাড়া মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা, মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চার তলা ফ্ল্যাট বাড়ি, রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮ নম্বর সড়কের ডি ব্লকে ২০২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৪ দশমিক ৫ কাঠা জমির উপর পাঁচটি দোকান ও টিনসেড বাড়ি এবং পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ ঠিকানায় ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমি উপর বাড়ি করেছেন তিনি।

“এগুলোর বাইরে টঙ্গী ও গাজীপুরে নামে-বেনামে রমিজ উদ্দিনের ৩০ একর জমি রয়েছে। কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে একরে একরে জমি। জেলার মুরাদনগরে স্ত্রী সালমা পারভীনের নামে রয়েছে ৫০ বিঘা জমি।”

পুঁজিবাজারে এই দম্পতির নামে ‘বড় অঙ্কের’ বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে তাদের আরও অনেক অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেন, “রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরে জমি বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার এবং পরে বাংলাদেশে ফেরত আনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।”

২০১৮ সালের শেষ দিকে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসার পর অনুসন্ধান শুরু হয় বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব জানান।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান এই অনুসন্ধান করছেন।

এদিকে,  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ভোরের পাতাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার দুর্নীতিবাজ কোনো কর্মকর্তাকেই ছাড় দিবেন না বলে যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তা আমরা পালন করতে শুরু করেছি। ইতিমধ্যেই ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এগুলো খতিয়ে দেখে শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন সরকারকে শনিবার রাত ৮ টা ৮ মিনিটে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ডিপিডিসির একটি সূত্র ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে, নিজের অপকর্ম লুকিয়ে রাখতে গত কয়েকদিন ধরে রমিজ উদ্দিন গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন এমনকি অনকেকে টাকাও দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 
 

Description Here ...

Ads
Ads