ফাঁসরোধে কোচিং বন্ধ: শুধু এক মাস নয়, স্থায়ীভাবেই হোক

  • ২৩-জানুয়ারী-২০১৯ ০৫:২১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষা শুরুর সাত দিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে বার বার কোচিং সেন্টার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্নিহিত দুর্বলতার সুযোগে। কোচিং সেন্টারের সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ের অনেকেরই গোপন আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে কি-না আমরা জানি না। কিন্তু এটা বন্ধ না হওয়ার কি কারণ থাকতে পারে, এ প্রশ্ন জাগনে এমনই ধারণা হবে সচেতন যেকারোরই। আর এ কারণেই কোচিং নামের এই বিষফোঁড়াকে সরানো যাচ্ছে না। তার পরও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার যে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী দিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই।

উল্লেখ্য, প্রায় সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে গত বছরও এসএসসির তিন দিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। এ বছর ৪ হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর এসএসসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ফলে মোটামুটি অভিযোগ ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে এ বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতারা যে নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করবে না তা বলা দুষ্কর। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিপদ এড়ানোই শুধু নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি বন্ধ ও শিক্ষাব্যবস্থার কোচিংনির্ভরতার অবসান ঘটাতে এই বিষফোঁড়ার উচ্ছেদ করার বিষয়টি নিয়ে এখনই তৎপর হওয়া উচিত। শিক্ষা খাতে জনগণের ট্যাক্সের টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হলেও শিক্ষার মান সেভাবে বাড়ছে না। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষার মান কিন্তু একেবারেই সাধারণ পর্যায়ের। এর কারণ হচ্ছে কোচিংনির্ভর শিক্ষা। যা জাতিকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে আসছে না। তোতাপাখির মতো কিছু ইংরেজি বলতে পারা ছাড়া এদের মধ্যে ক্রিয়েটিভ কোনো যোগ্যতাই দেখা যাচ্ছে না।

উচ্চতর চাকুরি ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। তারা রোজগার করে নিয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এর মধ্যদিয়ে যে বিপদ সৃষ্টি করছে তা এড়াতে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। কোনো হেলাফেলা করলে চলবে না। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য এটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতে হবে। আগামী সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এর আর কোনো বিকল্প হতে পারে না। 

Ads
Ads