টিআইবির প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত, মনগড়া: ইসি

  • ১৫-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করে এটিকে পূর্বনির্ধারিত, মনগড়া বলছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, টিআইবি যে প্রতিবেদনটিকে গবেষণা বলে দাবি করছে, তা কোনো গবেষণা নয়। প্রতিবেদন মাত্র। কেননা, গবেষণা করতে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে মনগড়া প্রতিবেদন। এছাড়া বলা হয়েছে, এটা তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন। তার অর্থই হচ্ছে এই প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত প্রতিবেদন।

তিনি বলেন, টিআইবি বলেছে গবেষণাটি গুণবাচক, মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাতকার ও পর্যবেক্ষণ, ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাবাচক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য নেয়া হয়েছে পরোক্ষ উৎস থেকে। এভাবে কোনো গবেষণা হয়?

রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের কারচুপির তথ্য নিলে অবশ্যই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে অথবা লিখিত কোনো ডকুমেন্ট থেকে তথ্য নিতে হবে, এসব করা হয়নি। কোন সোর্স থেকে কী প্রক্রিয়ায় তথ্য নিয়ে তারা বলছে, ভোটের আগের রাতে সিল মারা হয়েছে-এসব কিছু উল্লেখ নেই। কাজেই এটা কোনো গবেষণা হয়নি।

তিনি বলেন, বাছাইকৃত প্রার্থীদের কাছ থেকে তারা তথ্য নিয়েছে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিলেও গবেষণা প্রতিবেদন এক রকম হবে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কাছ থেকে নিলে তো আরেক রকম হবে। টিআইবির গবেষণায় এগুলো স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছি না। যদি গবেষণা হতো তবে আমলে নিতে পারতাম।

এর আগে আজ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৭টি আসনের প্রতিটিতে এক বা একাধিক ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪১ আসনে পড়েছে জাল ভোট। আর ৩৩ আসনে আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে।

২৯৯ আসনের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫০টি আসনে গবেষণা করে এমন তথ্য দেয় টিআইবি। সে মোতাবেক ৯৪ শতাংশ আসনে নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে। জাল ভোট পড়েছে ৮২ শতাংশ আসনে। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে সিল মারা হয়েছে ৬৬ শতাংশ আসনে।

টিআইবি তার গবেষণাপত্রের ব্যাখ্যায় বলেছে, এ গবেষণায় গুণবাচক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে- আধেয় বিশ্লেষণ, মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাবাচক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ারে বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে পরোক্ষ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বাছাইকৃত আসনের বাছাইকৃত প্রার্থীদের কার্যক্রমের ওপর পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এই প্রতিবেদন গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদন। তারা নির্বাচনে পরের একমাস পর্যন্ত গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, নির্বচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সবার জন্য সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। সব দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বৈষ্যমমূলক আচরণ করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। তার নিকট আত্মীয় প্রার্থী হলেও তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেননি। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল না। তাই সকল অনিয়মের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা উচিত বলে টিআইবি সুপারিশ করে।

টিআইবির ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হওয়ায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। এটা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, বিতর্কিত হয়। আর এতে প্রশ্ন থেকে যায়, এভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কতটুকু ভূমিকা রাখবে? একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাই যেখানে যা প্রয়োজন তা করে সামনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আছে, সেখানে যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, নির্বাচন কমিশনকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ রেখেছি।

গবেষণা প্রতিবেদনেও টিআইবি বলেছে, সরকারী দলীয় প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘণ করেছেন। তাদের প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয়সীমাও লঙ্ঘন করেছেন বেশি।

Ads
Ads