মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য ব্যক্তিগত ও অসত্য: সিইসি

  • ১৮-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই—নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের করা এ মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য ‘তার ব্যক্তিগত ও অসত্য’।

মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সিইসি। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল সাংবাদিকদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন, ‘আমি মোটেই মনে করি না, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। সেনাবাহিনী মাঠে নামলে, পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জকভাবে পাল্টে যাবে।’

এর জবাবে আজ সিইসি বলেন, মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ও অসত্য। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। এ নির্বাচনে সকল কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভুমিকা রাখবে। দেশে নির্বাচনী পরিবেশ ভাল আছে। সব মিলিয়ে লেভেল ফিল্ড পরিবেশ বিদ্যমান আছে। প্রার্থীরা সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করছে।

তিনি আরও বলেন, একজনের ফ্রিডম অব স্পিচ অ্যান্ড থট, এটা তো কনস্টিটিউশন তাঁকে অ্যালাউ করেছে যে, সে বলতে পারবে। সুতরাং, সে অনুসারে একজন কমিশনার তাঁর মতো তো বলতেই পারেন। আমার কাছে মনে হয়, এটা একেবারেই অসত্য কথা।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, এই খাগড়াছড়ির মতো এলাকায় যার যার মতো প্রচার চালাতে পারে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে কি? সব লোক সেখানে নির্বাচনে প্রচার করতে পারবে, প্রচারণা করতে পারবে, অংশগ্রহণ করতে পারবে। এখানে রেকর্ড সংখ্যক, ১৮০০ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অসুবিধা কোথায়?

সিইসি বলেন, এখানে প্রত্যেকটা কেন্দ্রে তারা নির্বাচনী প্রচারণা করে, মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে সংঘাত হয়, আবার সেটা ঠিক হয়ে যায়। পুলিশ গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। সেটা ঠিক হয়ে যায়। এসব তো নির্বাচনে ছোটখাটো ঘটনা ঘটেই থাকতে পারে। তাদের প্রচারণা হচ্ছে, মাইকিং হচ্ছে, পোস্টারিং হচ্ছে, আর কি প্রয়োজন আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে?

সমতলের মতো পাহাড়েও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ জানান কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, আমি এখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এই নির্বাচনও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আমরা এখানে মিলিত হয়েছি। তিন পার্বত্য জেলার মানুষ ভিন্ন, তারা শান্তিপূর্ণ মনোভাবের। পাহাড়ে প্রত্যেকটা কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারা দেশের থেকে এখানকার অবস্থা ভিন্ন। তাই তিন পার্বত্য এলাকার অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার লক্ষ্যে আমরা একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগেও আমরা রাঙামাটির নানিয়ারচরে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন করেছি। সকলের সহযোগিতায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. গোলাম ফারুক।

/ই

Ads
Ads