খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন ড. কামাল: প্রধানমন্ত্রী

  • ১৪-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা এতিমের টাকা মেরে খায় আজ তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন সেই কামাল হোসেন গং। তিনি নেতা মেনেছেন এমন একজনকে যিনি পলাতক, মানি লন্ডারিংয়ে সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপির সেই পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার অধীনেই ড. কামাল হোসেন গং ঐক্য করেছেন, আরও কিছু খুচরা আধুলি। মুখে নীতি কথা বলেন, অথচ নীতিবানরাই খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছে।

রবিবার (১৪ অক্টোবর)  বিকালে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ড. কামাল হোসেনকে সাবাস জানাই, তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা ছেড়ে ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন। কিন্তু ধানে শীষ নেই চিটা ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে ঠিকই আছে- কামাল হোসেনও কালো টাকা সাদা করেছেন, তারেক জিয়াও করেছে। রতনে রতন চেনে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মানুষের উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জিনিসপত্রের দাম সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু তাদের চোখে এসব পড়ে না।তারা আসলে কী চান? তাদের উন্নয়ন সন্ত্রাসের উন্নয়ন, তাদের উন্নয়ন মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন। মানুষ কাজ পাবে কিংবা উন্নত জীবন-যাপন করবে এটা তারা চান না। তাই উন্নয়নও তাদের চোখে পড়ে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে যারা খুন করেছিলো সেই খুনি মোশতাকদের পুনর্বাসন করেছিল জিয়াউর রহমান। আর ২১ আগস্ট আমাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেত্রত্ব শূন্য করতে হামলা করেছিলো খালেদা জিয়া। আইভি রহমানসহ অনেককে তারা খুন করেছে।  এমনই এই ভয়াবহ হামলার আলামত নষ্ট করে জজ মিযা নাটক সাজায়।এরা খুনি, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। মানুষের ওপর নির্যাতন করে। ২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে ৩ হাজার ৮শ’র মতো মানুষকে হত্যা করে। অগ্নি-সন্ত্রাসে যারা বেঁচে আছে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি হলো হত্যা, খুন আর ষড়যন্ত্র। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১-এ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে। রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী হয়েও কালো টাকা সাদা করেছিলেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বিএনপি-জামায়াত জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পেছনেও বিএনপি-জামায়াতের হাত ছিলো। নয়তো এমনিতে খালেদা জিয়া ১২টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন আর ওইদিন তিনি ভোরেই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যান। এতেই প্রমাণিত তিনি ওই ঘটনায় জড়িত। 

বিডিআর বিদ্রোহে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে দলের সভাপতি বলেন, এ ঘটনায় ৫৭ সেনা অফিসারের মধ্যে ৩৩জনই আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হয়, ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে পারে, লেখাপড়া করতে পারে, বিনামূল্যে ওষুধ পায়। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আপনারা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে এটাই মূল লক্ষ্য।

তিনি  বলেন, ‌‍আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জীবনে দুর্নীতি করিনি। কেউ কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। খালেদা জিয়া এটাও বলেছিলেন, এ সরকারের আমলে আর পদ্মা সেতু হবে না। জোট সরকার পদ্মা সেতুর কাজ কিছুই করেনি। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক সে সময় ৭টি প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। দেশবাসীসহ বিশ্ব দেখছে আমরাই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেই সেতু নির্মাণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পৌনে ১০ বছরে দেশের মানুষ উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বের ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। দেশজ উৎপাদন হিসেবে বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা শুরু করেছি। দেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। উন্নয়নের ৯০ ভাগ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করছি। এবার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.৪০ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৭৫১ ডলার। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১.৫ শতাংশ থেকে এখন ২১.৮ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ। প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। ৫ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ১২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়।

শেখ হাসিনা বলেন, বয়স্ক-ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ করা হয়েছে। স্বামী পরিত্যক্তা এবং দুস্থ মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২.৬৫ লাখ থেকে বেড়ে ১৪ লাখ। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ লাখ।

/ই

Ads
Ads