দৃশ্যমান হচ্ছে মীরসরাই শিল্পজোন

  • ১২-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

♦চলছে সমুদ্রপাড়ে সুপার ডাইকের কর্মযজ্ঞ
♦৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

:: নয়ন কান্তি ধুম, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ::

অবকাঠামো গত উন্নয়নে এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও উৎপাদনমূখী পরিকল্পনায় ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা খুব শিগ্রই দৃশ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়নে শিল্পশহরে রূপ ধারণ করবে। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরা লের প্রায় ৩০ হাজার একর চরা ল জুড়ে গড়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম এই শিল্পজোন। জানা গেছে, ৭ হাজার ৭১৬ একর জমিতে এবং সমুদ্র তীরবর্তী  জেগে ওঠা ১৫ হাজার একর জমির মধ্যে ৪টি মৌজায় ৬ হাজার ৩৯০ একর জায়গায় শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। চায়না হারবার কোম্পানির তত্ত্বাবধানে সেখানে নির্মিত হচ্ছে অবকাঠামো, তৈরী হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকায় তৈরি হচ্ছে সুপার ডাইক। যাতে সমুদ্র পথে বিশে^র সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হতে পারে। এছাড়াও সমুদ্রবর্তী সুপার ডাইকের এই মহাসড়ক নোয়াখালী, সোনাগাজী, মীরসরাই, সীতাকুন্ড, আনোয়ারার সাথে সংযুক্ত হয়ে টেকনাফের সাথে যোগাযোগে ভূমিকা রাখবে। সড়ক এবং নৌ পথের এই যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের বৃহৎ এই শিল্পজোনের আমদানি রপ্তানির অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে, মীরসরাই অর্থনৈতিক অ লে তৈরি হয়েছে ১৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মীরসরাই ইপিজেড পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে চার লেনের আরও ১০ কিলোমিটার শেখ হাসিনা অ্যাভিনিউ। মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংযুক্ত হচ্ছে এই অ লের সঙ্গে। 

এছাড়া, সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেভি ও চায়না হারবার কোম্পানি সাড়ে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে  মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করছে। কারখানায় পানি সরবরাহের জন্য দুই একর জমিতে তৈরি করা হবে জলাধার। সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

গ্যাস সরবরাহের জন্য ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন বসাচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড স্থাপন করবে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র। এছাড়া ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অ ল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে ৫০ একর জমি।

মীরসরাই শিল্পশহর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অ ল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এই অ লে দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ করতে চায় বসুন্ধরা, পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম, ঝেজিয়াং, কুনমিংসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ। 

ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিটোমো মেটাল বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে দেশিয় কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। যাতে প্রাথমিক ভাবে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা যৌথ বিনিয়োগ এবং পর্যায়ক্রমে তা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে জানান সংশ্নিষ্টরা। এ শিল্প স্থাপনের জন্য চাহিদা মোতাবেক মিরসরাই অর্থনৈতিক অ লে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অ ল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে যৌথ বিনিয়োগের পরিকল্পনায় জাপানি কোম্পানি নিপ্পন স্টিল ও ম্যাকডোনাল্ড ১০০ একর জমি ইজারা ইতোমধ্যে পেয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সামিট চিটাগাং পাওয়ার, ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায় সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি, বিপিডিবি আরপিসিএল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চায় ১ হাজার কোটি টাকা, আরব-বাংলাদেশ ফুড ১০০ কোটি টাকা, গ্যাস-১ লিমিটেড ২০০ কোটি টাকা, ফন ইন্টারন্যাশনাল ২০০ কোটি টাকা, ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা, আরমান হক ডেনিমস ১০০ কোটি টাকা এবং অর্কিড এনার্জি ২০০ কোটি টাকা।

গত বছর ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি মীরসরাই অর্থনৈতিক অ লের বেপজা ইকোনমিক জোন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরিকল্পনায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এখন দৃশ্যমান।

জানা গেছে, মীরসরাইয়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে পিএইচপি গ্রুপ। পিএইচপি স্টিল ওয়ার্কস বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে সেখানে স্টিল মিল স্থাপন করবে। এই গ্রুপ ৫৬৪ একর জমিতে স্টিল মিলসহ বিভিন্ন খাতে দুই ধাপে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন। এতে আধুনিক পাল্প অ্যান্ড বোর্ড মিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপন ও ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা ভাগ্যবান আমাদের এলাকায় এরকম একটি শিল্পশহর প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। এটি হলে মীরসরাই হবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শহর। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ মীরসরাই অর্থনৈতিক অ লের ১০ হাজার একর জমি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ২০৩০ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে শিল্পশহর চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পুরো কাজ শেষ হলে এখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩০ লাখ লোকের। যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার পাবে মীরসরাইয়ের মানুষ।

Ads
Ads