গরম মসলার বাজার গরম

  • ১৯-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

যেকোনো উপলক্ষে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে- এটা একটা স্থায়ী প্রবণতা হয়ে গেছে আমাদের দেশে। তবে উৎসবভেদে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম আর সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে যেমন গরম হয়ে উঠেছে মশলার বাজার।

কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই দেশের মসলার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের বাড়তি উপস্থিতি চোখে পড়ে। ব্যতিক্রম নয় এবারও। গত কয়েকদিন ক্রেতাদের চাপ তেমন না থাকলেও রবিবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাবিক্রি। বিশেষত, এই ঈদে কোরবানির মাংস দিয়ে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার রান্না করতে বিভিন্ন জাতের মসলার জুড়ি নেই। ফলে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময়টাতে মসলার বাজার থাকে সরগরম। 

এই বকরি ঈদে ঘরে ঘরে সেমাই-পায়েসের পাশাপাশি রান্না হয় কোরবানির মাংস। ফলে অন্য সময়ের চেয়ে চাহিদা বাড়ে হলুদ-মরিচ, পেঁয়াজ, আদা-রসুন আর গরম মশলার। এই সুযোগটাই নিচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা- দু্ই পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা।

তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা মশলার বাজার চড়ে যাওয়ার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন। আর এরই প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে বলে তাদের দাবি।

রবিবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন মসলার বাজার ঘু‌রে দেখা গে‌ছে এমনই চিত্র। মসলার দোকানগু‌লো‌তে ক্রেতা‌দের বাড়তি ভিড়ে খুশি বিক্রেতারাও।

মসলা কিন‌তে বাজারে এসেছেন র‌ফিক মিয়া। তি‌নি এক‌টি বেসরকারি কোম্পা‌নি‌তে চাকরি ক‌রেন। ঈদ করবেন ঢাকাতেই। কথা হয় তার সঙ্গেও। তি‌নি ব‌লেন, গত ২ বছর থে‌কে কোরবা‌নির ঈদ ঢাকা‌তেই ক‌রি। কোরবা‌নি ঢাকা‌তেই দিই। যে‌হেতু কোরবা‌নি দি‌বো তাই আগেভা‌গেই মসলার কেনাকাটাটা শেষ কর‌ছি।

ফার্ম‌গে‌টে থা‌কেন শ‌রিফ মিয়া তি‌নি জানান, কোরবানির গরু কেনা হয়েছে। কসাইও ঠিক করা শেষ। এখন মসলাটা কিন‌তে পার‌লেই জা‌মেলা শেষ হ‌য়। তাই তিনি মসলার বাজার ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় মসলা কিনে নিচ্ছেন। 
‌তবে তার কথায় উঠে এসেছে দরদাম নিয়ে কিছু অভিযোগও। শরিফ মিয়া ব‌লেন, যেকোনো উৎসব উপলক্ষে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে- আমা‌দের দে‌শে এটা একটা স্থায়ী প্রবণতা হয়ে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে। তবে উৎসবভেদে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম আর সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়। ঈদুল আজাহা‌কে কেন্দ্র ক‌রে মসলার দাম যেভা‌বে বেড়ে‌ছে সরকা‌র এদিকটায় খেয়াল রাখ‌লে সবার জন্য ভা‌লো হয়।

কারওয়ান বাজা‌রের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে জানা গেছে রাতারাতি দাম বাড়ার তথ্য। কেউ কেউ বলছেন, দু-একটা পণ্যের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে প্রায় সব মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সপ্তাহ খানেক আগে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৭/৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়াও দাম বেড়েছে এলাচ-দারচিনি, জয়ত্রী, জিরা, লবঙ্গ ইত্যাদি গরম মসলার। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া এলাচের দাম এখন ২ হাজার টাকা কেজি।

গত সপ্তাহে এলাচের পাইকারি দর ছিল ১৫০০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ এখন এ মসলা পণ্যের কেজি ১৮৫০ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে, ২০১৭ সালের এই সময়ে এলাচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১২০০-১৬০০ টাকা। চলতি বছরে সে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কেজিতে ৫৫০ টাকা বেড়েছে সাদা গোলমরিচের দাম। বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। আর খুচরা বাজারে দাম ১৫০০-১৬০০ টাকা।

১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া জয়ত্রীর পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে কেজিতে ৫৫০-৫৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯৫০ টাকা কেজি দরে। খুচরা কিনতে কেজি প্রতি গুণতে হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকা।

খুচরা বাজারে ভারতীয় জিরার দাম ৪০০ টাকা কেজি। একই জিরা পাইকারি বাজারে ৩১০ টাকা। গত সপ্তাহে পাইকারি বাজারে এর দাম ছিল ২৮০ টাকা।

খুচরা বাজারে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টার্কি জিরা। পাইকারি বাজারে এর দাম ৪০০-৪০৫ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় এখানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০-৬৫ টাকা।

কৃষি মার্কেট পাইকারি বাজারের বিক্রেতা মো. আবদুল আলীম বলেন, এখন আর দাম বাড়ার সুযোগ নেই। দাম যা বাড়ার বেড়ে গেছে। এখন ঈদের যে কদিন আছে, এর মধ্যে দাম না কমলেও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছি না।

আবদুল আলীম আর বলেন, দাম তো এমনিতে বাড়ে না। আমরা মৌলভীবাজার থেকে মাল আনি। সেখানে ব্যবসায়ীদের একটা বিশাল সিন্ডিকেট আছে। তারাই দাম বাড়ায়। আর এক সিন্ডিকেট আমাদের খুচরা ব্যবসায়ীরা। কয়টা মসলার দাম বাড়ছে? এরা সবগুলার দাম বাড়াইছে।

 

অনলাইন/কে 

Ads
Ads