শোকাবহ আগস্ট

  • ৯-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিবাদ করে প্রথম শহীদ হন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মৌলভী সৈয়দ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৭৭ সালের ১১ আগস্ট স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান মৌলভী সৈয়দকে বিনা বিচারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের চেষ্টা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তবে তা সফল হয়নি।

দেশের ইতিহাসে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল হয় কিশোরগঞ্জে। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও জাতীয় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

প্রতিবাদকারীদের মধ্যে প্রয়াত এডভোকেট আমিরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মানিক, ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, অশোক সরকার, এনামুল হক ইদ্রিস, আলী আসগর স্বপন, হাবিবুর রহমান মুক্তো, গোলাম হায়দার চৌধুরী, পীযুষ কান্তি সরকার, অলক ভৌমিক, অরুণ কুমার রাউত, প্রয়াত নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, প্রয়াত সেকান্দর আলী ভূঞা, হালিম দাদ খান রেজওয়ান, প্রয়াত আব্দুল আহাদ, রফিকউদ্দিন পনির, গোপাল দাস, প্রয়াত আকবর হোসেন খান, নুরুল হোসেন সবুজ, সৈয়দ লিয়াকত আলী বুলবুল প্রমুখ অন্যতম। সম্প্রতি তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

খুলনা শহরে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল বের করে ছাত্র ইউনিয়ন। তারপরই সালাহউদ্দিন ইউসুফের নেতৃত্বে মিছিল করে আওয়ামী লীগ। টাঙ্গাইলে সশস্ত্র প্রতিবাদ শুরু করে কাদের সিদ্দিকী। ১৬ আগস্ট সকালে সারাদেশে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে লিফলেট ছেড়ে ছিলেন তিনি। টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম মাস্টার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মিয়ার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ হয়। মালেক মিয়া ১৯৭৫ সালে ভারতে চলে যান। ১৯৭৯ সালে হালুয়াঘাট হয়ে দেশে এলে সেনাবাহিনী তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তার ৮টি দাঁত ভেঙে দেয়। হালিম মাস্টারকে ১৯৭৭ সালে গ্রেফতার করা হয়, ছাড়া পান ১৯৭৯ সালে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে প্রায় চারশ যুবক। তারা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে বিডিআর ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে প্রায় ২২ মাস সংগ্রাম করে। এদের মধ্যে আজগর আলী, শফিকুল ইসলাম, জিনাত আলী, গৌরাঙ্গ পালসহ অনেকের ২২ বছর কারাদ- হয়। ১৯৮৪ সালে শেখ হাসিনার সহায়তায় ১০ বছর কারাভোগ করে তারা মুক্তি পায়। বৈদ্যনাথ কর ও মোফাজ্জল হোসেন কারাভোগ করেন দুই বছর করে। অনেকেই ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এখনো বেঁচে আছেন দুই শতাধিক প্রতিরোধযোদ্ধা।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার ও শহীদ পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।

 

অনলাইন/কে 

Ads
Ads