রাজউকের কয়েকশ কোটি টাকার জমি এখনও নিলার দখলে 

  • ২৪-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহরের ভোলানাথপুর এলাকার ৩০০ ফুট সড়কের পাশে প্রায় ৮শ কোটি টাকা মূল্যের শত বিঘা সরকারি জমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মদদপুষ্ট মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা। দখলকৃত ওই স্থানে ‘নিলা মার্কেট’ নামে একটি বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটে পাকা, আধাপাকা কয়েকশ দোকানঘর নির্মাণ করে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা সালামি নিয়ে ভাড়া ও পজিশন বিক্রি করছে। রাজউকের কতিপয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জোগসাজশে ওই জায়গা দখল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয়রা জানায়, ৩০০ ফুট সড়কের পাশে ভোলানাথপুর এলাকায় রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের প্রায় শত বিঘা জমি দখল করে মার্কেট ও অস্থায়ী দোকান তৈরি করে বাজার বসিয়েছেন। ওই বাজার এখন ‘নিলা মার্কেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। দখল করা ওই জমির মূল্য প্রায় ৮শ  কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অনেকে। বেশ কয়েকটি দোকানঘরের পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। এক একটি পজিশনের মূল্য ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। শওকত আলী, সিরাজ মিয়া, আবু মিয়া, লাত মিয়াসহ অনেকেই পজিশন কিনে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর ছত্রছায়ায় রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা সরকারি জমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী শাহআলম ফটিকসহ তার লোকজন প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা করে ‘তোলা’ আদায় করছে ওই বাজার থেকে। এছাড়া ওই স্থানের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ঝুপড়িঘর বানিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই মাদকের আসর বসিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা বিক্রি চলছে। রাত গভীর হতেই জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতি জোড়া কপোত-কপতীকে একান্তে সময় কাটানোর জন্য ঘণ্টা ৫শ থেকে ১ হাজার টাকায় কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজন মার্কেটের আশপাশে মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো পরিচালনা করছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজউকের কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়েই নাকি দিন দিন বেপরোয়াভাবে অবৈধ কর্মকা- চালানো হচ্ছে। এগুলোর প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন এগুলোর প্রতিকারে স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় নিলা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করলেই পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা বলেন, আমার নামে ‘নিলা মার্কেট’ নাম দেওয়া হয়েছে এটা সঠিক। চাঁদা আদায়, মাদক, জুয়ার স্পট ও অসামাজিক কর্মকা-ের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজধানীসহ আশপাশের লোকজনের সুবিধার্থে এ বাজারটি বসানো হয়েছে। এছাড়া এখানে আমার কোনো আত্মীয়-স্বজনের কোনো দোকান নেই। ওই স্থানে এলাকার চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করছে। আমি স্থানীয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় একটি মহল সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন ‘ভোরের পাতাকে’ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জানতে চাইলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আবদুুর রহমান ভোরের পাতাকে বলেন, আমরা ইতোপূর্বে দুবার ওই জায়গা থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনা করেছি। ওই জায়গা জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়ে বলেন, ওই জায়গাটি শিগগিরই তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। 

Ads
Ads