নিলাই লীলা!

  • ২০-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভাইস চেয়ারম্যান দখল করে নিলেন কয়েকশত কোটি টাকার সরকারী জমি

:: কাওসার মাহমুদ ::

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইশারায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহরের ভোলানাথপুর এলাকার ৩০০ ফুট সড়কের পাশে প্রায় ৮শ কোটি টাকা মূল্যের শত বিঘা সরকারি জমি জবরদখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দখলকৃত ওই স্থানে ‘নিলা মার্কেট’ নামে একটি বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটে পাকা, আধাপাকা কয়েকশ দোকানঘর নির্মাণ করে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা সালামি নিয়ে ভাড়া ও পজিশন বিক্রি করছে। এছাড়া উপজেলাকে টেন্ডার-চাঁদাবাজি, জবরদখল, মাদক ও পতিতা ব্যবসাসহ অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন ওই জনপ্রতিনিধি ও তার লোকজন। 

স্থানীয়রা জানায়, ৩০০ ফুট সড়কের পাশে ভোলানাথপুর এলাকায় রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের প্রায় শত বিঘা জমি দখল করে মার্কেট ও অস্থায়ী দোকান তৈরি করে বাজার বসিয়েছেন। ওই বাজার এখন ‘নিলা মার্কেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। দখল করা ওই জমির মূল প্রায় ৮শ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অনেকে। বেশ কয়েকটি দোকানঘরের পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। এক একটি পজিশনের মূল্যে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। শওকত আলী, সিরাজ মিয়া, আবু মিয়া, লাত মিয়াসহ অনেকেই পজিশন কিনে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। প্রতিদিন রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার লোকজন এ মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছে। দোকানিরা জানান, বাজারের খাজনার নামে দোকানপ্রতি প্রতিদিন ১শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা বেশি বলে পণ্যের দাম দ্বিগুণ করে বেচতে হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা। 

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর সহোযোগিতায় রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকারি জমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী শাহআলম ফটিকসহ তার লোকজন প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ‘তোলা’ আদায় করছে ওই বাজার থেকে।

সূত্র বলছে, পূর্বাচল উপশহর গড়ে ওঠার লক্ষ্যে ভোলানাথপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট সুন্দর করে নির্মাণ করা হয়েছে। এ সড়কটি দিয়ে চলাফেরা করতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। রাজধানীসহ আশপাশ এলাকার অনেকে সপরিবার-বন্ধুবান্ধব মিলে শখের বশে ঘুরতে যান সেখানে। কিন্তু আশপাশে সতর্ক করে খেয়াল করলেই চোখে পড়বে অন্য আরেক দৃশ্য। কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ঝুপড়িঘর থেকে ক্ষণে ক্ষণে বের হয়ে যাচ্ছে জোড়া কপোত-কপোতী। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই যুবকদের জটলা। সেখানে বসানো হয়েছে মাদকের আসর। এসব আস্তানায় অতি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে মরণনেশাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। রাত গভীর হতেই জুয়ার আসরে লাখ লাখ টাকার খেলা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও রাজধানী থেকে আগত জুয়াড়িরা জুয়া খেলতে আসে এখানে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতি জোড়া কপোত-কপোতীকে একান্তে সময় কাটানোর জন্য ঘণ্টা ৫শ থেকে ১ হাজার টাকায় কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যনের লোকজন মার্কেটের আশপাশে মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো পরিচালনা করছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজউকের কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়েই নাকি দিন দিন বেপরোয়াভাবে অবৈধ কর্মকা- চালানো হচ্ছে। এগুলোর প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন এগুলোর প্রতিকারে স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় নিলা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করলেই পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে কয়েতপাড়া  ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রফিক বলেন, এমপির মদদে ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা ও তার লোকজন এলাকায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল করে বাজার বসিয়েছে। এছাড়া ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসিয়েছে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা বলেন, আমার নামে ‘নিলা মার্কেট’ নাম দেওয়া হয়েছে এটা সঠিক। চাঁদা আদায়, মাদক, জুয়ার স্পট ও অসামাজিক কর্মকা-ের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজধানীসহ আশপাশের লোকজনের সুবিধার্থে এ বাজারটি বসানো হয়েছে। এতে লোকজন উপকৃত হচ্ছে। আসলে একটি মহল সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। যেহেতু জেনেছি পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

Ads
Ads