ন্যায় বিচারের আশায় ডিএনসিসির নির্যাতিত কর্মচারী হোসেন আলী

  • ১৯-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ঘটনার নয় দিনেও বিচার পাননি ডিএনসিসির নির্যাতিত কর্মচারী হোসেন আলী


:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

অফিসের ভেতর ইট এবং লাঠি দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত থেতলে দেয়ার ঘটনায় গত ৯ দিনেও বিচার পাননি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব বিভাগের অঞ্চল-৩ এর কর্মচারী মো. হোসেন আলী। উল্টো তাকে আপোষ করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিনা প্রয়োজনে ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিসে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনকে নিয়ে আড্ডার সুযোগ না পেয়ে অফিস সহকারী হোসেন আলীকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় বিচার পর্যন্ত পাচ্ছেন না তিনি।

অভিযোগে জানা যায়, ডিএনসিসির অফিস টাইম সকাল ৯ টাকা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত হলে, হামলাকারী একই অফিসের শ্রমিক লীগের নামধারী কথিত নেতা লেজারকিপার (ট্রেড লাইসেন্স সুপারভাইজার) আবদুর রশিদ ডিএনসিসির বিভিন্ন দপ্তরের লোকজনকে নিয়ে রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অফিসে আড্ডা দেন। ফলে রাজস্ব বিভাগের অফিসটির নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি অফিস সহকারী হোসেন আলী অফিসটি বন্ধ করে বাসায় যেতে পারে না। আর এই বিষয়ে ওই অফিসের কর কর্তকর্তার নির্দেশে গত ৮ নভেম্বর আবদুর রশিদকে রাত ৭ টার পরে অফিস বন্ধ করে চলে যাবার অনুরোধ জানান হোসেন আলী। কিন্তু এই বিষয়টিকে ভালভাবে নিতে পারেননি আবদুর রশিদ। তিনি (রশিদ) ১০ নভেম্বর দলবলসহ এসে মোবাইলে হোসেন আলীকে ডেকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে নির্মমভাবে আঘাত মারাতœকভাবে আহত করেন।

হোসেন আলী লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন , গত ১০ নভেম্বর ডিএনসিসির মহাখালী অফিসের হোসেন আলীর (তার) ওপর নগ্নভাবে হামলা চালিয়েছেন, লেজারকিপার ও ট্রেড লাইসেন্স সুপারভাইজার আবদুর রশিদ, তার সহযোগী মো. গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাদের, মো. মামুন মিয়া, মো. মঞ্জু মিয়া, বিদ্যুৎ বিভাগের সেলিম এবং সড়ক শ্রমিক মো. সেলিমসহ আরো কয়েকজন। ােনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আবদুর রশিদেও নেতৃত্বে ওই হামলাকারীরা হোসেন আলীকে কিল,ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে ইট দিয়ে তার দুই পা এবং কপালে আঘাত করতে থাকেন এবং তার পকেট থেকে টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে যান। তার চিৎকারে আশ পাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়।

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পরদিন ১১ নভেম্বর ডিএনসিসির শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বজলুল মোহাইমিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনসহ অন্যান্য নেতারা ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফার সাথে দেখা করেন। মেয়র বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা কৌশলে হামলাকারীদের রক্ষার জন্য নির্যাতিত হোসেন আলীকে আপোষ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এই ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর রাতেই হোসেন আলীর ডিএমপির বনানী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অদ্যাবদি পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে জানান ভিকটিম হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যরা। 

নির্যাতিত হোসেন আলী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়রের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে বিচারের আবেদন করেছেন। কিন্তু নির্যাতিত কর্মচারী হোসেন আলীর আবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ডিএনসিসির মেয়রের দপ্তর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক নির্বাহীকর্মকর্তার দপ্তরের লোকজন বেশ তৎপরতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন,  হোসেন আলীর ঘটনাটি নির্মম এবং অত্যন্ত দু:খজনক। আমার কাছে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সমান, কারো প্রতি অন্যায় বা অবিচার সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিগগির কর্মকর্তাদের জবাব দিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান। 

উল্লেখ্য, এর আগেও ডিএনসিসির সচিব নবিরুল ইসলাম বুলবুলের ওপর ডিএনসিসির নগরভবনে হামলা হয়েছিল। ওই হামলার সঙ্গেও এই গ্রুপের কয়েজন জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। বেশ কয়জনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হলেও পরে সবাইকে ক্ষমা করে দেয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে।

Ads
Ads