যে কারণে রাজনৈতিক ‘শরণার্থীরা’ বিএনপিতে আশ্রয় চান!

  • ৩-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ থেমে গেছে। ঐক্যের ব্যাপারে বিএনপিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। আর ঐক্যের অন্যতম উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন বিদেশে উড়াল দিয়েছেন। মাঝখানে বিপাকে পড়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া ছোট দলের বড় নেতারা। জানা গেছে, বিএনপিকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল ছিল ছোট দলগুলোর ‘বড় নেতা’দের পরিকল্পনা। এই ছোট দলের বড় নেতারা হলেন, জেএসডির আ. স. ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সাবেক ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এই ত্রয়ীর ভাবনা জুড়ে ছিল নির্বাচন। মাহমুদুর রহমান মান্না তো, দুই বছর সরকার চালানোর ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পিছু হটায় তাঁরা এখন রাজনৈতিক শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন। এই তিন নেতাই এখন বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নেওয়ার জন্য তদবির করছে। আর তাঁদের পক্ষে ওকালতি করছেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ। কিন্তু এই তিনজনকে নিতে বিএনপিরও তেমন কোনো আগ্রহ নেই। কারণ এঁদের তিনজনের আসনেই বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী আছে।

ড. কামাল হোসেনের হঠাৎ হুংকারে বিএনপি উৎসাহিত হয়েছিল। বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা খোলামেলা ভাবেই স্বীকার করেছেন যে, ‘আমরা মনে করেছিলাম এই উদ্যোগে হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা আছে।’ এরকম ভাবনা থেকেই বিএনপি ঐক্য প্রক্রিয়ায় যেতে আগ্রহ দেখায়। ড. কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যৌথ বৈঠক রাজনীতির মাঠে মৃদুকম্পন তোলে। কিন্তু ঐক্যের শুরুতেই ড. কামাল আর বি. চৌধুরীর মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে। অন্যদিকে, অধ্যাপক চৌধুরীর ব্যাপারে বিএনপিতে সন্দেহ দানা বাঁধে। বিশেষ করে, মাহী বি. চৌধুরীর একের পর এক শর্তে বিএনপি বিরক্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করে।

বিশেষ করে ‘জামাত ছাড়ার’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দাবিকে বিএনপি নেতারা ‘অপমানজনক’ হিসেবে মনে করেন। বিএনপি অবশ্য শর্তহীন ঐক্যের ব্যাপারে ড. কামাল হোসেনকে ম্যানেজ করে ফেলেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কাউকে না জানিয়ে ড. কামাল সিঙ্গাপুর চলে যান। বিএনপির নেতারা বুঝে ফেলেন, ড. কামালের উদ্যোগ ভেঙ্গে গেছে। ফলে, বিএনপি ২০ দলেই মনোযোগী হয়। অধ্যাপক বি. চৌধুরীও সরকারের সঙ্গে একটা আপোষ সমঝোতায় কিছু আসনের গ্যারান্টি চায় আগামী নির্বাচনে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিকল্প ধারার একটা সমঝোতার চেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে। এজন্য বি. চৌধুরী এবং তাঁর ছেলে জাতীয় ঐক্য তো নয়ই এমনকি যুক্তফ্রন্টেও আগ্রহী নন। এতেই বিপাকে পড়েছেন, রব-মান্না-সুলতান। ক’দিন আগেও তাঁদের বেশ কদর ছিল। তাঁদের জন্য গণমাধ্যমেরও আগ্রহ ছিল। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতনে তাঁরা আবার এতিম হয়েছেন। এরা এখন নির্বাচনের জন্য বিএনপির কাঁধে সওয়ার হতে চাইছেন। কিন্তু ‘এত বড় নেতাদের’ ব্যাপারে বিএনপির আগ্রহ নেই। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে এতিম অথবা শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন তাঁরা। 

Ads
Ads