এ কেমন মন্ত্রী?

  • ২০-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের সুফল স্বরূপ নরসিংদী শহর হতে সদরের চরাঞ্চলে যাতায়াত এর জন্যে মেঘনার শাখায় একটি সেতু নির্মাণকাজ সদ্য সমাপ্তির পথে।

কিন্তু, ইতিমধ্যে গত ১৯.০৯.১৮ ইং চরাঞ্চল তথা নজরপু্র, করিমপুর, আলোকবালী ও চরদিঘলদী এই চার ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে, সেতুটি উদ্বোধনের পূর্বেই  নরসিংদী সদর আসনের সাংসদ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লে: কর্নেল নজরুল ইসলাম হিরুকে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু, দু:খজনক বিষয় হচ্ছে, এই বিশাল আয়োজনে ব্যবহৃত সুবিশাল ব্যানারে বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনকের কোন প্রতিকৃতি শোভিত হয়নি এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবিও সেখানে ছিল না। অথচ আওয়ামী সাংসদের সংবর্ধনা !শুধু তাই নয় প্রশাসনিক কর্মকতা ব্যতীত, নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকে এই সংবর্ধনায় দেখতে না পেয়ে নরিসংদী সদরের আওয়ামী সমর্থকদের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পক্ষান্তরে, এই জনসভায় বিএনপি জামাতের স্বরব উপস্থিতি আওয়ামীলীগ কর্মিদের মনোকষ্টকে আরও তীব্রতর করেছে।

আওয়ামীদের সাংসদের পাশে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জামাই আদরে বসিয়ে তৃনমূল আওয়ামীলীগ কর্মিদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সূতপাত করায়  অনেকে অভিমান করে নীরবে সভাস্থল থেকে প্রস্থান ও করেছেন!

যেখানে আওয়ামীলীগ এর হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা রয়েছে সরকারের উন্নয়নের কথা প্রচারের, সেখানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি না লাগিয়ে আওয়ামীলীগ এর একজন সাংসদ সংবর্ধিত হওয়া চরম ধৃষ্টতারই নামান্তর।

জাতির জনকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া নিজেকে আওয়ামীলীগ কর্মি দাবি করা নিতান্তই প্রহসন। হিরু সাহেবের প্রতি নরসিংদী সদরবাসীর বদ্ধমূল ধারনা হচ্ছে- তিনি ত্যাগী আওয়ামীলীগ কর্মিদের কোনঠাসা করে হাইব্রীডদের তুষ্ট করার মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগের ঐতিহ্যকে ম্লান করেছেন।

আর গত ১৯.০৯.১৮ইং তারিখে স্পষ্ট এটা প্রমাণ করলেন যে, তিনি শুধু ত্যাগী আওয়ামীলীগ কর্মিদের কোনঠাসাই করেননি বরং স্বীয় সুনাম প্রাপ্তির নেশায় জাতির জনকের প্রতি অবজ্ঞা ও করতে পারেন বিনা দ্বিধায়। সদরের আওয়ামী কর্মিদের মনে তিনি যে ক্ষোভের অবতরণা করেছেন সে জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

জনমনে এখন প্রশ্ন বিএনপি নেতাদের খুশি করতেই সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানো হয়নি!
দলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সরাসরিভাবে এই সাংসদকে কিছু বলতে না পারলেও তৃনমূল আওয়ামীলীগ কর্মীরা ওনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন - শুধুমাত্র ওনার তোষামোদ কারী কয়েক জন আওয়ামী বলে খ্যাত হাইব্রিড নেতা ছাড়া ।

জনমনে প্রশ্ন, জাতির জনকের প্রতি অবজ্ঞা করে কি নিজেকে আওয়ামীলীগ কর্মি দাবি করা যায়?

Ads
Ads