শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করা ন্যায্য ছিলো

  • ৩০-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

একটি বাসের ধাক্কায় দুজন শিক্ষার্থী নিহত হলে শোকে মুহ্যমান শিক্ষার্থীরা গত মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তা দখলে নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়। সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সাথে এবং ইতিবাচকভাবে নেয়। সরকার কথা দেয় ট্রাফিক আইন কড়াকড়িভাবে পালন করা হবে এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শাস্তি আরো বৃদ্ধি করা হবে। এক কথায় বলা যায়, বিক্ষোভকারীরা সফল।

কিন্তু দেশের প্রধানবিরোধী দলের নেতারা এই ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের একটি সুযোগ দেখতে পান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্যরা ছাত্রদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে তার মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরিধান করে পুরো ব্যাপারটিকে গোলমেলে করে তোলে। দ্রুতই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংসতায় রুপান্তরিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশী আলোকচিত্রী শহিদুল আলম তাদের একজন যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী। তাকে সংঘাতে উসকানি দেবার জন্য গ্রেফতার করা হয়। এর ফলে তার পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে হৈচৈ পরে যায়।

বাংলাদেশ এর পূর্বেও এ ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে। বিএনপি বারংবার নির্বাচনে ভোটারদের ঠেকাতে এ ধরণের ঘৃণ্য পন্থা ব্যবহার করে। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা দেশব্যাপী অবরোধ শুরু করে। বিএনপি নেতারা ও তাদের সহযোগীরা হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গাড়ি, দালান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় ও ধ্বংস করে দেয়। ২০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যকে হত্যা করে এবং সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেয়। নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনী বুথগুলোতে আগুন বোমা ছুঁড়ে মারে। সব মিলিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব দেয়া হামলায় ২৩১ জন নিহত এবং ১১৮০ জন আহত হন।

সাম্প্রতিককালের ছাত্র আন্দোলনে বিএনপির উসকানি এত দূর যায়নি। তবে এর ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন যা এড়ানো যেতো। জনাব আলম বিএনপির পক্ষে খেলবার চেষ্টা করেন এবং গ্রেফতার হন। তিনি একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গতানুগতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য ছড়ান। এর ফলশ্রুতিতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং একই সাথে ক্ষমতাশীন দলের প্রধান কার্যালয়ে হামলা করা হয়। এ ধরনের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ছড়ানোয় বহুজন আহত হন। এই হামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এর এক সদস্য চিরতরে অন্ধ হয়ে যান।

এক দশকের বেশি সময় ধরে জনাব আলম উচ্চকণ্ঠে নিজের মত প্রকাশ করছেন। কখনও তিনি বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, কখনও কঠোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাতেই সরকার তার মুক্তমতের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। এই অধিকার সকল বাংলাদেশীর আছে। এই জাতির গর্ব করার মতো একটি স্বাধীন গণমাধ্যম রয়েছে। এ দেশে রয়েছে ৩০০ সংবাদপত্র, ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং দুই শতাধিক সংবাদ ওয়েবসাইট, যারা প্রায়শই সরকারের সমালোচনা করে।

ভিন্নমত প্রদর্শনের জন্য পুলিশ জনাব আলমকে গ্রেফতার করেনি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কারণ তার সাম্প্রতিক কার্যক্রম সত্যিকারের ক্ষতি করছিল। তার বক্তব্য একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে একটি বেআইনি সংঘাতে পরিণত হয়েছিলো। নিজ স্বার্থে জনাব আলম বিক্ষোভকারীতে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছেন। ফলে, পুরো ঢাকা অচল হয়ে পরে।

জনস্বার্থে সরকার জনাব আলমকে গ্রেফতার করে। সরকারের এই পদক্ষেপ জরুরি ছিলো। জনাব আলম কোন হয়রানির শিকার নন। তার কার্যক্রমে প্রচুর মানুষের ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোন জনাকীর্ণ স্থানে আগুন না লাগলেও আগুন বলে চিৎকার করা বেআইনী। বাংলাদেশে জনাব আলম প্রায় একই কাজ করেছেন। এবং তাকে অপরাধী হিসেবেই আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এ বছর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই বিরোধী দল সরকারের সাফল্য থেকে সকলের দৃষ্টি সরাতে কোন কিছু করলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। সরকার ৩ কোটি মানুষকে দারিদ্রমুক্ত করেছে, দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ করেছে। বিএনপির আবার সংঘাত সৃষ্টি করার মধ্যেও অবাক হবার মতো কিছু থাকবেনা। কিন্তু এর কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয। কারও অন্যের ক্ষতি করার অধিকার নেই। তা সে কোন রাজনৈতিক দল হোক কিংবা কোন সেলিব্রিটি চিত্রগ্রাহক অথবা আর কেউ।

তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অপহরণ করে অন্য বাংলাদেশীদের সাথে তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা আর যাই হোক রাজনীতি হতে পারেনা, এটা সন্ত্রাসবাদ। গণমাধ্যমগুলোর বিএনপির এই প্রহেলিকায় পরা ঠিক হবেনা। বাংলাদেশ বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতবাদকে দমন করেনি। বাংলাদেশ নিরপরাধ প্রাণ রক্ষা করেছে। 

সূত্র: রিয়েল ক্লিয়ার ওয়ার্ল্ড

Ads
Ads