নেত্রী বললেন, মার খাও, কিন্তু উত্তেজিত হওয়া যাবে না

  • ১৮-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা করা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে শান্ত থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওই আন্দোলনে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বারবার অফিস থেকে ফোন করেছিলাম, নেত্রী পার্টি অফিসের গেটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসছে, ওরা আক্রমণ করবে। আমরা কী করব? নেত্রী বললেন, মার খাও, কিন্তু উত্তেজিত হওয়া যাবে না। নেত্রী যদি এই ধৈর্য ধরার পরামর্শ না দিতেন, ছাত্রছাত্রীদের ওপর বল প্রয়োগ করা যাবে না— পুলিশকে যদি এই নির্দেশনা না দিতেন, তাহলে কি পুলিশ ধৈর্য ও সংযম দেখাতে পারত?’

শনিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি আয়োজিত ‘গুজব সন্ত্রাস-অপপ্রচার রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকার উৎখাতে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র, আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও গুজব-অপপ্রচার নিয়ে একটি ভিডিও দেখানো হয়। এরপর সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দিতে সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রী যথাযথভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করেছেন এবং মোকাবিলা করেছেন উল্লেখ করে সরকারের এই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আন্দোলনকে হিংসাত্মকভাবে ভয়াবহ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার যে বিপদজনক এজেন্ডা, সেই এজেন্ডাকে তিনি সৎসাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে একজন স্টেটসম্যান, চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়কের মতো মোকাবিলা করেছেন।

আমাদের পার্টি এখন প্রোঅ্যাকটিভ পার্টি। তা না হলে আমরা হেরে যাওয়া চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিততে পারতাম না।’

কোটা আন্দোলনের ওপর বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা ভর করেছিল মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আরও ভয়ংকর কিছু হতে পারত। কিন্তু সরকার চমৎকারভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবং সেটা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

সরকারের বিরুদ্ধে এমন আরও চক্রান্ত চলছে এবং তা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, এমন আরও আন্দোলনের চক্রান্ত রয়েছে। গোপন বৈঠক হচ্ছে দেশে, বিদেশে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্ক ও প্রস্তুত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অফিস সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন আমরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করি। কোনো বিষয়ে আমাদের ঘাটতি থাকলে নেত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই এবং এগিয়ে যাই।’

Ads
Ads