ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস: নির্বাচনী মাঠের বাস্তব প্রতিফলন 

  • ১৩-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

তবে কি এবারো নিরঙ্কুশ জয় উৎসবের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট! দীর্ঘ এক দশক পর যে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে তাতে করে সর্বত্রই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদেরই নির্বাচনী ময়দানে পদচারণা মুখর হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। আর এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইফনিটি (ইআইইউ) তাদের এক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে যে, এবারের নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বড়সড় জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ বিষয়ে কান্ট্রি ব্রিফিংয়ে তাদের গবেষণাপত্রে এ ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ক্ষমতায় থেকে দেশকে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি নির্বাচনে দলটির পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুর্বল অবস্থানের কারণে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে খুব বড় চ্যালেঞ্জ তৈরিতে সমর্থ হবে না। ইআইইউর প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াতে পারে, তারও একটি সম্ভাব্য রূপরেখা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে স্থানীয় বিভিন্ন জরিপে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনেক এগিয়ে থাকার তথ্য তুলে ধরে ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এটা ঠিক যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল যদি এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে তাহলেই ‘২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।’ নয়তো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তখন ‘অস্থিরতা’ নয়, বরং সুস্থিরতাই বিরাজ করবে বলে আমরা আশাবাদী। কেননা, এবারের নির্বাচনে বিরোধী জোট পরাজয় হলে আগামীতে তাদের অবশিষ্ট শক্তিও নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের রাজপথে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না। তখন আওয়ামী নিরুপদ্রবেই ২০৪১ সাল পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। 

কেননা, ইকোনমিস্ট এর প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে যে, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।  ভৌগোলিকভাবে কৌশলগত অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভারত, চীন ও জাপানের মতো দেশের কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সহায়তা লাভে সক্ষম হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের বিজয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে এবং এ সময় জিডিপিতে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।’ তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই বলে রেখেছেন, আগামীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১০ এর ওপর চলে যাবে। আর আওয়ামী লীগের পরিবর্তে যদি অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে তাহলে তো এক বাক্যেই বলে দেওয়া যায় যে, সে সরকার সব কিছুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলবে, এতে কোনোই সংশয় নেই। দেশে  ফের ‘হাওয়া ভবন’ জাতীয় এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসবে। ফিরে আসবে নতুন নতুন  জামায়াত-শিবির, জেএমবি, হিযবুত তাহরীর, ‘বাংলা ভাই’ জাতীয় জঙ্গি উন্মাদনা। কেননা, এসব মিলিয়েই আমরা বরাবরই বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অপরিক্বতার পরিচয় দিতে দেখেছি। তারা রাজপথে যেমন অর্বাচীনতার পরিচয় দিয়েছে বারবার, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়েও বারবার অর্বাচীনতার পরিচয় দিয়েছে। তারা হচ্ছে ‘ওপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট’ এরকম কিসিমের রাজনীতিক।

তার ওপর তাদের আগুন সন্ত্রাস, ইসলাম ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে আঁতাত, সাম্প্রদায়িকতা এসবের সংস্রবতা তো লেগে আছেই। ফলে তারা দেশীয় ক্ষেত্রে যেমন বিচ্ছিন্ন তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিচ্ছিন্ন। তার ওপর ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’র মতো রয়েছে দলের শীর্ষ নেতা না থাকা। যা আরেক প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন দিয়ে পূরণ হওয়ার মতো নয়। সব মিলিয়ে এবার আওয়ামী লীগ এতো নিষ্কণ্টক নির্বাচনী মাঠ ইতিপূর্বে আর কখনোই পায়নি। সে হিসেবে আমরা মনে করি, ইকোনমিস্ট যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা শতভাগই ফলে যাবে। আর এর মধ্যদিয়ে আমরা এক উজ্জ্বল বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই।        
 

Ads
Ads