ফের পাহাড়ধসে প্রাণহানি: সতর্কবার্তায়ও সতর্কতা নেই!

  • ১৬-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ফের পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। গত এক দশক ধরে চলা এই পাহাড়ধস যেন থামছেই না। সতর্কবার্তায়ও রোধ করা যাচ্ছে না প্রাণহানি। অর্থাৎ এই সতর্কবার্তায়ও যেন কোনো সতর্কতা নেই এই পাহাড়বাসীর। জীবনকে যেন এরা একপ্রকার নিয়তির হাতেই সমর্পণ করে বসে আছে। ফলে ঝড়-বৃষ্টি-ঢলে পাহাড়ে ধস নামার ঘটনা প্রতি মৌসুমেই ঘটছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার জন্য এখন এটা একপ্রকার নিয়তি হয়েই দাঁড়িয়েছে। অথট প্রতিবারই প্রশাসন থেকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। কিন্তু মৌসুম শেষ হওয়ামাত্র এসব বক্তব্যেরও সমাধি ঘটে। তখন আর তদারকি করা হয় না এসবের। কোনো প্রকার ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না পাহাড় কাটার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

যেসব পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে আবাসন তৎপরতাও থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। তবে কি নিয়তির হাতেই সমর্পণ করে মেনে নিতে হবে এসব মৃত্যুর মিছিল? যেকারণে আমাদের নিরুপায় হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতেই হচ্ছে প্রতিবছরই এই প্রাণহানি; কখনো হয়তো সংখ্যায় কম, তাই আমরা তখন বিষয়টি হালকাভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। আর যখন কখনো সংখ্যায় বেশি প্রাণহানি ঘটে তখনই আমাদের ক্ষণকালের জন্য টনক নড়ে। গণমাধ্যমেও বিপুল খবর ছাপা হয় এ নিয়ে। সরকারের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট বড় কর্তাবাবু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সামনে এসে দাঁড়ান। জ্ঞানগর্বী কথা বলেন। তারপর থেকেই আবার এ বিষয়ে পিনপতন নীরবতা। 

এবার পাহাড়ধসে যে চারচনের প্রাণহানি ঘটল তাতে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাব রয়েছে। এ সময়ে ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামের দুই জায়গায় পাহাড় ও দেয়ালধসের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনি এলাকায় পাহাড়ধসে মাটি ঘরের ওপর পড়ায় এক পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে রাত ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানার রহমাননগর এলাকায় দেয়ালধসে নিহত হয় একজন। ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফিরোজ শাহ কলোনির দুটি কাঁচাঘরের ওপর পড়লে তিনজন নিহত হয়। ভোরের দিকে মাটি সরিয়ে তারা ওই তিনজনের লাশ বের করে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অন্য সব ঘটনার মতো এ ঘটনায়ও ক্ষতির শিকার হয়েছে অতিসাধারণ একটি পরিবার। আর এতেই পরিষ্কার এই পাহাড়গুলোতে এরকম অতি সাধারণ পরিবারের লোকজন একান্তই নিরুপায় হয়েই এইসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি গড়ে তুলছে। 

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে কয়েক দিন চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঝুঁকির কথা চিন্তা করে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য তারা সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে; প্রয়োজনীয় অন্যান্য উদ্যোগও নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। কিন্তু তাতে বাসিন্দারা কোনো গরজ করেনি। 

আর প্রতিবারই আমরা এ ধরনের অভিযোগ শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন কথা হচ্ছে কেন এরা গরজ করছে না। গরজ করবে কী করে, এই সাধারণ মানুষ তো  অসহায়ও বটে, কেননা, তাদের তো এ ছাড়া আর কোনো থাকার জায়গা নেই। থাকবেটা কোথায়। তার জন্য ব্যবস্থা তো করতে হবে! নজরানার বিনিময়ে সিটি কাউন্সিলর বা সরকারি কর্মকর্তা বা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সম্মতি নিয়ে তারা ওখানে বসতি করে থাকে। বহুবার এসব বিষয়ে নানা সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সেসব সুপারিশ মেনে কি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ? নাকি তারাও এই প্রাণহানির ধারাবাহিকতা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে? কিন্তু আমাদের তো এনিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেলে চলবে না, আমাদের লিখে যেতেই হবে। এই যেমন আজও (সোমবার) লিখলাম। কিন্তু এই লিখার প্রতিকার করবেটা কে বা করা? তাদের প্রতিই আমাদের এই দৃষ্টি আকর্ষণ। এই পাহাড়ধস ঘটনার কি স্থায়ী কোনো সমাধানই নেই!
 

Ads
Ads