এমপি সোহেল হাজারীর শপথ গ্রহনের ১৯ মাস

  • ৪-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

কালিহাতীতে ১৯’শ কোটি টাকার উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান

:: আব্দুস সাত্তার,প্রতিনিধি টাঙ্গাইল ::

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের এমপি আলহাজ¦ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর শপথ গ্রহনের ১৯ মাসে কালিহাতীতে   ১৯’শ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।উন্নয়নের মাধ্যমে ১৯ মাসেই জনগণের মনে নিজের স্থান করে নিয়েছেন তিনি। তার জনপ্রিয়তা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে ইর্ষনীয় হয়ে পড়েছে একটি মহল। গত উপ-নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমপির পিছে জনগণ ঘুরবে না,এমপি ঘুরবে জনগণের পিছে। তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুফল পেয়েছে কালিহাতীবাসী। ওই উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে সোহেল হাজারীকে পূনরায় এমপি হিসেবে দেখতে চায় কালিহাতীর সাধারণ ভোটার ও তৃনমূল নেতা কর্মীরা । 
 জানাগেছে,এমপি সোহেল হাজারী প্রতি মাসে ২০-২২ দিন কালিহাতীতে সময় দেন।তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে লুঙ্গি পড়িহিত অবস্থায় বেড়িয়ে যান উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজারে তৃনমূল নেতা কর্মীদের সাথে দেখা করে তাদের এলাকার সমস্যার কথা শুনতে।চা স্টলে বসে সাধারণের সাথে চা পান করতে দেখা যায় এমপি সোহেল হাজারীকে। যখন তিনি যে এলাকায় যান ওই এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন।

যে সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে করা যায় সেইটা তাৎক্ষণিক সমাধান দেন  আর যে সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয় তা লিপিবদ্ধ করে রাখেন।ওই তালিকা অনুযায়ী মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সামাধান করে থাকেন। ইতিমধ্যেই কালিহাতীর জনগণ উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কালিহাতীর চরাঞ্চল হিসেবে খ্যাত যোগারচরে ১’শ কোটি টাকা ব্যায়ে যোগারচর ব্রিজ, সল্লা ব্রিজ, কোদালদহ ব্রিজ, মরিচা ব্রিজ, বগা ব্রিজ,কোকডহড়া ব্রীজের কাজ কোনটা সম্পন্ন হয়েছে, কোনটা চলমান,কোনটা অনুমোদন হয়েছে।

এছাড়াও এলজিইডির ৫০ কিলোমিটার রাস্তার নির্মান কাজ চলমান।  এলেঙ্গা-ভূয়াপুর সড়কে ১০টি ব্রিজ অনুমোদন হয়েছে। তাছাড়াও রাস্তা প্রশস্ত করণ মেইনটেনেন্সের কাজ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। এছাড়াও এলজিইডির ৫’শ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। কালিহাতী ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছ। কালিহাতী মুক্তিযোদ্ধা ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২’শ তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। কালিহাতী চরাঞ্চলের নদী ভাঙ্গন রোধে ৩’শ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চরাঞ্চলসহ উপজেলার প্রত্যেকটি প্রত্যান্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আলোকিত করেছে। সব মিলিয়ে ১৯’শ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে  উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।এত অল্প সময়ে এত উন্নয়নমূলক কাজ ও এমপি সোহেল হাজারীকে জনগণ তাদের হৃদযে স্থান করে নেয়া দেখে একটি মহল ইর্ষনীয় হয়ে পড়েছে।

এমপি সোহেল হাজারীর উত্থান: এমপি সোহেল হাজারীর জন্ম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে। তার দাদা মরহুম আমির আলী মোক্তার ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের এলএমএ নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন যুক্তফ্রন্টের পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারী। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে রাজনীতি করতেন।দাদাকে মানুষের সেবা করতে দেখে রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন তিনি। স্কুল জীবন থেকে জড়িয়ে পরে রাজনীতিতে।

১৯৮৫ সালে   গোপালদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।কলেজ জীবনে টাঙ্গাইল এমএম আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯২ সালে ওই কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন, ১৯৯৬ সালে বাংলার আলীগড় খ্যাত শা’দত বিশ^বিদ্যালয় (করটিয়া বিশ^বিদ্যালয়) থেকে ভিপি নির্বাচিত হন, ১৯৯৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন, ২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার পর হুমকির মুখে পরে তার জীবন। তৎকালীন মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ কালিহাতী কালেজ মাঠে একটি জনসভায় তাকে গ্রেফতার করার জন্য এসপিকে নির্দেশ দেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি চলে যান ঢাকায়। জড়িয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এরপর নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৯ সালে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, ২০১২ সালে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক নির্বাচিত হন, টাঙ্গাইল-৪ আসনের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দীকী হজ্জ্ব ও তাবলীগ নিয়ে কথা বলায় আসনটি শূণ্য হয়। ঐ আসনে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারী উপ-নির্বাচনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ ফেব্রুয়ারী সংসদ সদস্য হিসেবে সপথ গ্রহণ করেন।

বর্তমানে সংসদের বানিজ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জেলা ও উপজেলা আ’লীগ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।শপথ গ্রহনের পর থেকেই সংসদের কাজ ব্যতিত বাকী সময় এলাকার জনগণের দুঃখ, দূর্দশা, সমস্যা ও সামাধানের পথ খুঁজে বেড়িয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজারে তৃনমূল নেতা কর্মীদের সাথে। এমপি সোহেল হাজারী তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের হৃদয়ে ভাই হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় ইত্যোদি খ্যাত প্রজন্ম প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আকবর আলী আশার সাথে। তিনি এমপি সোহেল হাজারী সম্পর্কে বলেন, “আমি কিছুদিন আগে এমপি সোহেল হাজারীর কাছে আমার স্কুল বিষয়ক একটি কাজ নিয়ে যাই। আমি উনাকে স্যার বলাতে উনি বললেন, আমি আপনার স্যার নই আমি আপনার ভাই। আপনি আমাকে ভাই বলে ডাকলে আমি খুশি হবো।তিনি আমার স্কুলের সমস্যার দ্রুত সমাধান করে দেন। যা ইতিপূর্বে কোন এমপি/ মন্ত্রীর সামনে গিয়ে আমার মত সাধারণ মানুষ সরাসরি বলতে পারিনি। শুধু আমি নই, আমার মত কালিহাতীর প্রতিটা সাধারণ মানুষ এমপির কাছে যেতে পারেন।  আমি এমপি মহোদয়কে স্যালুট জানাই। বাংলার প্রতিটি আসনে যেন এমপি সোহেল হাজারীর মত প্রতিনিধি জন্ম নেন।

Ads
Ads