যে সাত দফা নিয়ে অগ্রসর হবেন ড. কামাল!

  • ২৯-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ সাত দফার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চান বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি সরাসরি কোনো জোটে না গিয়ে আলাদা অবস্থান থেকে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মানুষে মানুষে ঐক্য ইতিমধ্যে হয়েই গেছে। এখন প্রয়োজন এই ঐক্যকে কাজে লাগানো।

অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টের নেতারা চান গণফোরাম তাদের জোটে যুক্ত হোক। এই জোটের নেতারা মনে করেন, এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে এবং সরকারবিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের কাজটিও সহজ হবে। পাশাপাশি একসঙ্গে আন্দোলন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনও সহজ হবে।

মঙ্গলবার রাতে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণফোরাম এবং যুক্তফ্রন্ট নেতারা এভাবে যার যার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। রাত পৌনে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠকে সরকারবিরোধী আন্দোলন ইস্যুতে একটি অভিন্ন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ইস্যুতে দু’পক্ষই আরও সময় নেয়ার কথা বলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেন ছাড়াও বৈঠকে গণস্বাস্থ্যের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, তার স্ত্রী তানিয়া রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম নেতারা।

একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনা- এই তিন ধাপে ন্যূনতম এবং অভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন দু’পক্ষ। পর্যায়ক্রমে এটি যাতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে রূপ নিতে পারে, সেজন্য জামায়াতে ইসলামী বাদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল, জোট ও ব্যক্তির এই ঐক্যে সমবেত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা নিয়ে আলোচনা হয়।

Ads
Ads