প্রযুক্তির শৈশব...

  • ৩-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: মোশারফ হোসাইন ::

ছোটবেলায় মোবাইল ব্যবহার কী বুঝতামনা, জানতাম না এটা দিয়ে কী-কী করা যায় বা কী হয়। শুধু জানতাম এটা দিয়ে কথা বলা যায়। আমিও বড় হতে থাকলাম আর প্রযুক্তিও বাড়তে থাকলো। প্রযুক্তি বেড়ে দেশের জন্য উন্নয়ন হলেও শিশুর জন্য অভিশাপ। শিশু কাঁদছে। তাকে ভোলাতে মা হাতে তুলে দিলেন মোবাইল। বাবা-মা ব্যস্ত জরুরী কাজে। আর এভাবেই হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে যাচ্ছে শিশুদের কাছে। নষ্ট হচ্ছে আগামীর প্রজন্ম।

প্রযুক্তি নামক বিষাক্ত নেশায় আসক্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রাণঘাতী গেমসে ঝুঁকছে শিশু- কিশোররা আবার ইন্টারনেটে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। বিয়য়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ শিক্ষাবিদ-প্রযুক্তিবিদদের। এক সময় বিকেল হলেই খেলার মাঠগুলোতে ছুটোছুটিতে মেতে থাকতো শিশু-কিশোররা। ফুটবল, ক্রিকেট, গোল্লাছুট, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্দা, ডাঙগুলি, মার্বেল, ক্র্যামবোর্ডসহ নানা খেলায় মেতে থাকতো শিশুরা।

স্কুল-কলেজের ক্লাসের ফাঁকে সহপাঠীদের সাথে আড্ডা, দৌড়াদৌড়ি, দুষ্টুমিই ছিল তাদের নিত্য দিনের আনন্দ। সকাল সন্ধ্যায় গল্পের বইয়ে ডুব দেয়া, বড়দের সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, প্রবীণদের কাছ থেকে গল্প শোনা ছিল তাদের কাছে এক ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে এই চিত্র। এসবের জায়গা এখন দখল করে বসেছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপের মতো সব আধুনিক যন্ত্র।

এসব প্রযুক্তিতে গেমস খেলা, টিভি দেখা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক টুইটার ইউটিউবসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে ঘুরে বেড়াতেই বেশি পছন্দ করছেন এখনকার শিশু-কিশোর ও তরুণ তরুণীরা। শুধু মাত্র গেইম খেলার জন্যই খেলা নয় বরং মরণঘাতী পথে হাটছেন অনেকেই। নিত্যনতুন প্রযুক্তির কারণে পরিবারের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে শিশুরা। সময় পেলেই আইপ্যাড, স্কাইপি এবং মোবাইল গেমস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সাইবার জগতে নানান রকমের অপরাধে শিকারও হচ্ছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাদের শতকরা ৭০ ভাগ শিশু মোবাইলফোন ব্যবহারকারী। বাংলাদেশ এই পরিসংখ্যান বেড় করতে না পারলেও সংখ্যায় কম হবেনা। মোবাইল নামক এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মানষিক ও স্বাস্থ্যগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা এ বিষয়ে সচেতনতা নেই অভিভাবকদের।

১৪ বছরের আগে সন্তানের হাতে মোবাইল না দেওয়ার পরার্মশ দিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন খুব সহজ কাজ নয়। অভিভাবকরাই ঠিক করবেন একজন শিশুর বেড়ে ওঠা কেমন হবে। তাই শিশুর হাতে কখন মোবাইল তুলে দেবেন, সে সিদ্ধান্তও নিতে হবে অভিভাবকের। নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এই বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর ছিলেন বিল গেটস। তার তিন সন্তানের বয়স যথাক্রমে ২০, ১৭ ও ১৪। এদের কেউই হাইস্কুলে ওঠার আগে মোবাইল হাতে পাননি। এর আগেও সন্তানের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া নিয়ে একই কথা জানিয়েছিলেন বিল গেইটস।

২০১৬ সালে ‘কিডস অ্যান্ড টেক: দ্য ইভলিউশন অব টুডে’জ ডিজিটাল নেটিভস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীতে যেসব শিশু মোবাইল হাতে পায়, তাদের গড় বয়স ১০.৩ বছর। সোশ্যাল সাইট ব্যবহারকারী শিশুদের গড় বয়স ১১.৪ বছর ।

Ads
Ads