আপত্তিকর প্রস্তাবে অনেক কাজ বাদ দিয়েছি: বাঁধন

  • ২৯-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: বিনোদন ডেস্ক ::

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের বয়সের থেকে প্রায় বিশ বছরেরও বড় মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ২০১০ সালে।

বাঁধনের ভাষায়, ‘আমার মা আমার চেয়ে ১৭ বছরের বড়। আর সনেট ছিলো আমার মায়ের থেকেও বড়। স্রেফ সার্টিফিকেটেই আমার চেয়ে বিশ বছরের বড় সে। তবুও তাকে বিয়ে করেছিলাম ভালোবেসেছিলাম বলে। মনে হয়েছিলো সে একজন সুখী সংসারী মানুষ হবে। কিন্তু সেই ধারণা আমার ভুল ছিলো।’

২০১০ সালে বিয়ে করা বাঁধনের সংসারটি ভেঙ্গে যায় ২০১৪ সালে।

রোববার (২৮ অক্টোবর) ছিল বাঁধনের জন্মদিন। সেদিন তাঁর ব্যস্ততা, আগামী দিনগুলোতে অভিনয়ের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার কিছু অংশ ভোরের পাতার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বাঁধনকে প্রশ্ন করা হয়, হলিউড আর বলিউডে ‘#মি টু’ আন্দোলন শুরু হয়েছে। আপনাকে এই ধরনের কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে?

উত্তরে তিনি বলেন, শুনছি তো অনেক কিছুই। আমার বয়স এখন ৩৪। বুদ্ধি হওয়ার বয়স থেকে এখন পর্যন্ত এ রকম অনেক নিপীড়নের শিকার হয়েছি। মাকে বলতেও পারিনি। এখন অবশ্য আমার মেয়েকে এসব সম্পর্কে শেখাই। আমাদের এখানে মেয়েদের সেই অর্থে কোনো কিছু বলতে দেওয়া হয় না। মেয়েদের প্রতিবাদ কীভাবে করতে হয়, তা যদি ছোটবেলা থেকে শেখানো হতো, তাহলে ‘#মি টু’ পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। আমাদের সময় বলা হতো, চেপে যাও চেপে যাও। এই চেপে যাওয়াকে প্রতিপক্ষ দুর্বল ভেবে আরও সুযোগ নেয়। আমরা ঢাকার চাঁদনি চক মার্কেটে যাই, ভিড়ের মধ্যে কত নোংরা হাত যে গায়ে চলে এসেছে! এই ঘটনা কিন্তু সব জায়গায় ঘটে। কোথায় বাদ দেবেন। শুধু মিডিয়াকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন কেন? নায়িকাদের সবকিছু শুনতে খুব মজা লাগে? এই জায়গাটা নষ্ট জায়গা প্রমাণ করতে মজা লাগে? নষ্ট তো আসলে সব জায়গা।

অভিনয় করতে এসে কখনো এমন আপত্তিকর অভিজ্ঞতা দেখতে হয়েছে? 

উত্তরে বাঁধন বলেন, সবাই জানেন, আমি সব সময় প্রতিবাদী। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর পর সবাই তা টের পেয়েছেন। আমি নানাভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছি। অস্বীকার করে লাভ নেই। আমি কোথাও গেছি, আপত্তিকর মন্তব্য শুনেছি—এটাও তো একধরনের নিপীড়ন। চোখ দিয়েও তো প্রতিদিনই ধর্ষিত হচ্ছি। আমাদের এখানে চোখের সমস্যা, মনের সমস্যা। তা না হলে কেন শিশুরাও ধর্ষিত হবে! আপত্তিকর প্রস্তাবে অনেক কাজ বাদ দিয়েছি। যেখানে কিছু বিকিয়ে দিতে হবে, সেখান থেকে ফিরে এসেছি। কেন জানি, আমি সবকিছু আগে থেকে বুঝে যাই। ভালো মানুষ হঠাৎ করে শয়তান হয়েছে, এমনটা দেখা যায় না। শয়তান যারা, তারা প্রমাণিত শয়তান।

তাদের নাম বলা যাবে? 

উত্তরে বাঁধন বলেন, এসব নাম এখনই বলতে চাই না। সময় হলে ঠিকই বলব। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছি, এটা মিডিয়ার অনেকেই জানেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদও করেছি।

কবে বলবেন? 

বাঁধন বলেন, বলব। আমি কোনো কিছুতে ভয় পাই না। আজকের অবস্থানে আসতে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে আরেক ধরনের মেয়ে আছেন, তাঁরা বলেন আমার সঙ্গে এমন কিছুই হয়নি! আমি হিপোক্রেট হতে পারব না, আমার সঙ্গে অনেক হয়েছে।

অভিনয়ের খবর বলুন। 

বাঁধন বলেন, সত্যি বলছি, আমার আরেকটা উপলব্ধি, ভালো কিছু কাজ করা উচিত। ভালো কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। হুট করে ঠুসঠাস কাজ করে ফেললাম। ঈদের আগে থেকে অনেক অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছি।

কী দিয়ে ফিরছেন, নাটক নাকি সিনেমা?

বাঁধন বলেন, দুজন ভালো নাট্য নির্মাতার সঙ্গে আলাপ চলছে, চূড়ান্ত হলেই শুরু করব। এর মধ্যে যদি কোনো সিনেমার ব্যাপারে কথা হয়, সেটাও করতে পারি। হয়তো দেখা যাবে, বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা ওয়েব সিরিজেও কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমার কর্মক্ষেত্রকে অনেক শ্রদ্ধা করি। আজকে আমি বাঁধন হয়েছি, এখানে কাজ করার কারণে।

এমন কেউ আছেন, আপনি যাঁর মতো হতে চান? 

উত্তরে বাঁধন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা আমি খুবই অনুপ্রাণিত। তাঁর ভেতরের শক্তির জন্য তাঁকে অনেক ভালোবাসি। তিনি একজন মমতাময়ী মানুষ, নিজের লক্ষ্য জানেন, কোনোভাবেই নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হন না। এটা বড় ব্যাপার। আমি এই সরকারের আমলে সন্তানের অভিভাবকত্ব পেয়েছি; যা বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশে বিরল ঘটনা। তাঁর দ্বারা আমি প্রভাবিত, আমি তাঁর মতো মানুষ হতে চাই।

ওজন কমানোর পর আপনাকে নিয়ে সবার আগ্রহ বেড়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন,  প্রথমত আমার নিজের ইচ্ছা। ফিটনেসও এখানে ভূমিকা রেখেছে। এটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একটা ভুল ধারণা মানুষের মধ্যে সব সময় ছিল। আমি যখন ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা থেকে বের হই, তখন খুব গ্ল্যামারাস ছিলাম। সবাই ভাবতেন, আমি গ্ল্যামারভিত্তিক কাজ চাই, আসলে বিষয়টা মোটেও এ রকম ছিল না। আমি এখন ক্ষুধা থেকে কাজ চাই। ভালো কাজ চাই। যেখানে আমি নিজেকে ভাঙতে পারব, অভিনয়ের প্রমাণ দিতে পারব। ও রকম অভিনয় পাইনি বলে কাজ শুরু করতে পারিনি। যে কজন ভালো পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে, সবাই একাগ্রতার খুব প্রশংসা করেছেন। অনেকে আবেদনময়ী বলে শেষ করে দেয়, তাঁদের বলতে চাই—এটাকে প্রাধান্য না দিয়ে আমার একাগ্রতাকে আর চেষ্টাকে সম্মান করুন। আমার চেষ্টা ছিল বলেই গত এক বছরে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। দেখা গেছে, গত বছর এই দিনেও আমি বাসায় বসে কান্নাকাটি করছিলাম। সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে শুধু একাগ্রতার কারণে নিজেকে সামলে নিতে পেরেছি।

/ই

Ads
Ads