জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ণে শেখ হাসিনা

  • ১৯-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: তরিকুল ইসলাম ::

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের পছন্দের এবং গুণগত মানের দিক থেকে অন্যতম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দিয়েছেন  বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম নাম করা 'জগন্নাথ কলেজ'কে 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়' ঘোষণা করা হয়।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে ছিলো না।

আইন এবং কাঠামোগত ভাবে অনেক সমস্যা ছিলো।যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ২৭(৪) ধারা নামে একটি কালো আইন বিদ্যমান ছিল।এই আইনে বলা হয়েছিল  বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার ৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আয়ে চলবে।তার অর্থ হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও তাদের নিজের টাকায় পড়াশুনা করবে।এখানে কোন সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।এতে প্রতি ছাত্রকে প্রতি সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায় এক লক্ষ টাকা দিতে হবে।

এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের বাসা/ বাড়ীতে থাকতে হয়।এই মহা সংকটের কারনে ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন  ২৭(৪) ধারা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে।সেই আন্দোলন ক্যাম্পাস  থেকে বের হয়ে সচিবালয় ঘেরাও এর মত কঠিন আন্দোলনে রুপ নেয়।সেই আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী আহত এবং গ্রেফতার হয়।তখন সেই সময়কার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনে অবাক হয়ে যান এবং শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সাথে সাথে ২৭(৪) ধারা বাতিল  এর ঘোষণা দেন।পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন  শেখ হাসিনা সেটি সংসদে পাশ করে ২৭(৪) ধারা স্থায়ী ভাবে বাতিল করে দেন।তারপর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়।এখন যেখানে একজন শিক্ষার্থী মাত্র তিন হাজার টাকায় এক সেমিস্টার শেষ করতে পারে, যদি ২৭(৪) ধারা বাতিল না হত তাহলে এক সেমিস্টার শেষ করতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী কে প্রায় এক লক্ষ টাকা গুনতে হত।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সকল শিক্ষার্থীকে মেসে থেকে মানবতার জীবন যাপন করতে হয়।এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টার শেষ করতে মেস ভাড়া এবং খাওয়া খরচ বাবদ প্রায় তিরিশ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয় এবং একই সাথে মেসের নোংরা পরিবেশ এবং সময়মত খেতে পারায় অনেক শিক্ষার্থী অনেক দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়।একই সাথে পরিবহন সংকট থাকার কারনে শিক্ষার্থীদেরকে অল্প কয়েকটা বাসে করে বাদুঁড়ের মত করে ঝুলে ক্যাম্পাসে আসা- যাওয়া করতে হয়।যার জন্য অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থী বাস থেকে পড়ে আহত -নিহত হয়।এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ করে আবাসনের জন্য হলের দাবিতে ২০১৫ সালে তীব্র আন্দোলন হয়।২০১৫ সালের আগেও অনেকবার হলের দাবীতে আন্দোলন হয়েছে।

২০১৫ সালের আন্দোলন ছিল সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সচিবালয়, প্রেস ক্লাব,হাইকোর্ট, জিরো পয়েন্টের সামনে অবস্থান নেয় এবং তীব্র আন্দোলন করে।তখনও এ আন্দোলনের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে পৌছিয়ে দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনে হতবাক হয়ে যান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে একটি প্রকল্প দেবার ঘোষণা দেন।সেই লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসিক সংকট দূরীকরণ সহ একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি রূপকল্প তৈরী করতে বলেন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে ডেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  নির্দেশনা দেওয়া বার্তাটি শিক্ষার্থীদের কাছে এসে পৌছালে শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাশরুমে ফিরে যান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ০৯ ই অক্টোবর কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারিত প্রকল্প পাশ হয়।এ প্রকল্পে ২০০ একর জমির উপর স্টেয়েডিয়াম,সুইমিংপুল, হেলিপ্যাড,খেলারমাঠ,সহ সকল প্রকার অবকাঠামো নির্মানের জন্য ১৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।এই প্রকল্প জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কে সবচেয়ে   আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এছাড়াও মাননীয় প্রধনামন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট, কর্মকর্তা- কর্মচারী সংকট দূরীকরণে নিয়োগ বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা অর্জনের জন্য এমফিল, পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেবার নির্দেশ দেন।সর্বোপরি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একমাত্র  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ই অবদান।এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার চির কৃতজ্ঞ। এবারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আন্তরিক  ধন্যাবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকছে নানা আয়োজন।  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‍্যালীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের স্লোগান থাকবে " জগন্নাথের প্রকল্প, শেখ হাসিনার অবদান", "শেখ হাসিনার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ধন্য", " শেখ হাসিনার সরকার, শিক্ষাবান্ধব সরকার ", "শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার", " শেখ হাসিনা এগিয়ে চল, ছাত্রসমাজ তোমার সাথে"।

লেখক

মোঃ তরিকুল ইসলাম
সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Ads
Ads