নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরায় নারীসহ জেএমবির তিন জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার

  • ১-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ::

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির এক নারীসহ তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গুলিসহ বিপুল পরিমান জঙ্গীবাদী বই এবং লিফলেট। 

রবিবার রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাদানীনগর ও ঢাকার ডেমরা থানার পশ্চিম হাজীনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- বরিশালের কাউনিয়া এলাকার রেজাউল করিম, বরিশালের বাকেরগঞ্জের জহিরুল ইসলাম পলাশ ও চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের শাহনাজ আক্তার সাদিকা। এদের মধ্যে রেজাউল করিম ও পলাশকে মাদানীনগর এবং সাদিকাকে ডেমরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগর এলকায় অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক কমান্ডার রাসেল আহম্মেদ কবীর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক কমান্ডার রামেল আহমেদ কবীর জানান, গ্রেফতারকৃতরা নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, সাদিকা জেএমবির নারী শাখার ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের সমন্বয়কারী, রেজাউল করিম সামরিক শাখার সদস্য ও জহিরুল ইসলাম সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিল। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহনাজ আক্তাা সাদিকা ২০০৯ সালে ঢাকার দক্ষিনখানস্থ একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১০ সালে গাজীপুর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসা হতে আলিম পাশ করে।  ২০১৩ সালে ঢাকা একটি বেসরকারী বিশ¡বিদ্যালয় ফার্মেসী বিভাগে ২য় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করে। ২০১৫ সালে আননিসা কালেকশন  অনলাইন ভিত্তিক একটি বোরকার ব্যবসার সাথে জড়িত হয়।  ২০০৪ গ্রেফতারকৃত জেএমবির সদস্য আকলিমা আক্তারের মাধ্যমে সে জেএমবির নারী শাখায় যোগদান করে। 

রেজাউল করিম ২০০৭ সালে বরিশালের একটি স্থানীয় স্কুল থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করে অটো রিক্সা চালানো শুরু  করে। ২০১৪ সালে ফেইসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী বয়ানের মাধ্যমে উগ্রবাদীতায় আকৃষ্ট হয়।  বুলবুল বরিশালের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিল।  বুলবুল তাকে বিভিন্ন জিহাদ সম্বলিত লিফলেট ও বই প্রদান করে জেএমবিতে যোগদান করতে বললে সে সম্মত হয়। এরপর সে বরিশালে বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির গোপন হালাকায় বুলবুলের সাথে অংশগ্রহন করে জেএমবির দাওয়াতি কার্যক্রম চালানোর কৌশল রপ্ত করে। 

জহিরুল ইসলাম পলাশ বরিশালের স্থানীয় একটি স্কুল ও কলেজ থেকে যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১০ সালে এএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ঢাকার একটি স্বনামধন্য কলেজ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে। সে ঢাকায় বিবিএ পড়াকালীন অধিকাংশ সময়ে বরিশালে অবস্থান করত। ২০১৬ সালে বরিশালের একটি সালাফি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বুলবুল হাসান ও রেজাউল করিমের সাথে জহিরুল ইসলাম পলাশের পরিচয় হয়। এরপর বুলবুল হাসান পলাশকে ঈমান-আকীদ্বার দাওয়াত দেয়। ধীরে ধীরে বুলবুলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় পলাশ হানাফী মাজাহাব থেকে সালাফীতে দ্বিক্ষিত হয় এবং এক পর্যায়ে পলাশ জেএমবিতে যোগদান করে। জেএমবিতে যোগদানের পর থেকে পলাশ জেএমবির দাওয়াতী কাজ করে আসছে।

গ্রেফতারকৃ তিন জঙ্গি সদস্যদের বিরুদ্ধে আনইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে র‌্যাব জানায়। 

Ads
Ads