মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে: জাতিসংঘ

  • ২৭-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

মিয়ানামারের রোহিঙ্গা মুসলমান এবং অন্যান্য নৃ-তাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের উপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন।

সোমবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী `গণহত্যার অভিপ্রায়' থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

এতে মিয়ানমারের ছয়জন ঊধ্বর্তন সামরিক কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, এ কর্মকর্তাদের অবশ্যই তদন্তের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ওই প্রতিবেদনে রাখাইনের পাশাপাশি শান ও কাচিন অঞ্চলেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকার বিদ্বেষমূলক প্রচারকে উসকে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করেছে এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচার এবং তদন্তের জন্য যথেষ্ট তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত আদালত রাখাইন রাজ্যে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে তা নির্ধারণ করতে পারেন।

রাখাইন, কাচিন, শান রাজ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য একই পদক্ষেপ চেয়েছে মিশন।

কথিত বিদ্রোহী দমনের নামে গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নৃশংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। এই অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সেনা ও নজরদারিতে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র। তবে আজ জাতিসংঘ মিশনের প্রতিবেদন ভিন্ন কথা বলেছ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ২০১৭ সালের মার্চে এই মিশন গঠন করে। মিশনের প্রতিবেদনে এই বলে উপসংহার টানা হয়েছে যে, তদন্তের যৌক্তিকতা ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য যথেষ্ট তথ্য রয়েছে।

/ই

Ads
Ads