ফেইসবুকে গুজব: অভিনেত্রী নওশাবা ৪ দিনের রিমান্ড

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে ৪ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

রোববার (০৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ হেফাজতের আদেশ দেন।

এর আগে দুপুরে এই অভিনেত্রীকে উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের হেফাজত চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বিকাশ কুমার পাল।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, গত শনিবার জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ‘দুই ছাত্রের মৃত্যু এবং একজনের চোখ তুলে ফেলার’ কথা নিজের ফেসবুকে ছড়ান। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই নওশাবার উদ্দেশ্য ছিল। এ গুজব ছাড়ানো ও পরিকল্পনায় সহযোগী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এ সময় এই অভিনেত্রীর পক্ষে আইনজীবী এ এইচ এম ইমরুল কাওসার নওশাবার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা নাকচ করে দেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ের কর্মীদের সংঘর্ষে জিগাতলা এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা সংঘর্ষে হেলমেট পরা একদল যুবককে দেখা গেছে, যাদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে।

সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে অভিনেত্রী নওশাবা বিকেল চারটার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন। ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিওর শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ বলছি, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

তারপর শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুজব ছাড়ানোর কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে নওশাবাকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই নওশাবার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের ভাষ্য, নওশাবা স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসার আগে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি জিগাতলা নিয়ে কথা বলার সময় উত্তরায় ছিলেন। রুদ্র নামের এক ছেলে তাঁকে লাইভ করতে বলেন। তাই তিনি উত্তরা থেকে লাইভ করেছেন।

/ই

Ads
Ads