ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সতর্কবার্তায় দুর্নীতিবাজরা!

  • ৮-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ত্যাগ না করার অঙ্গীকার করে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, আমার মন্ত্রণালয় থেকে বদনাম নিয়ে যেতে চাই না। এখানে দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবো। 

দুর্নীতিবাজ কর্মীদের দিকে ইঙ্গিত করে তাদেরকে ‘ভালো হয়ে যাওয়ার’ বার্তা দিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ; বলেছেন, ভালো হতে না পারলে তাদের অন্যত্র চলে যেতে হবে।

নতুন দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস মঙ্গলবার (০৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাবেদ এসব কথা বলেন। 

পাঁচবছর একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসা জাবেদ এবার পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে। প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে বিনা নোটিসে হাজির হতেন চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ।

মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে মেসেজটা চলে গেছে। মেসেজটা কি? এখানে নতুন কেউ আসেনি।

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ওরা’ আমাকে ভালো করে চেনে। সুতরাং যাদের সমস্যা তাদেরকে বলব ভালো হয়ে যেতে, আর না হয় অন্য জায়গায় চলে যেতে।

ভূমি অফিসে মানুষের হয়রানি বন্ধ না হওয়াকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী।

জাবেদ বলেন, এখনও ওভাবে আশানুরূপ কিছু ইমপ্রুভ করতে পারিনি আসলে। সিস্টেমের একটি বিষয় আছে। সিস্টেম প্রপারলি ডেভলপ করতে পারলে হয়রানি কমে যাবে।

“পাসপোর্টে এক সময় হয়রানি হত কিন্তু এখন নাই। কারণ সিসটেম অ্যালাও করছে না কিছু করতে। এখানেও সিস্টেম ডেভলপ করলে হয়রানি থাকবে না এবং এটাই আমাদের কাজ।”

তিনি বলেন, সকল ভূমি অফিস সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং আমাদের একসেস থাকবে। অফিসে বসে নিজের ইচ্ছামত ভূমি অফিসের চিত্র দেখতে পারব। এটা হলেই পঞ্চাশ শতাংশ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিষয় আছে। আশা করি হয়ে যাবে। আমরা প্রসেস করতে থাকি।

বছর দুয়েকের মধ্যে জনগণ পরিবর্তন বুঝতে পারবে বলে আশাবাদ্য ব্যক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী।

মাঠ পর্যায়ে মানুষের ভোগান্তি কিভাবে আরও কমানো যায় সে ব্যাপারে প্রথমদিন কার্যদিবসেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়ে বলে জানান মন্ত্রী।

“ইতিমধ্যে সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে মাঠ পর্যায়ে ভূমি ইউনিয়ন অফিসগুলোতে আরও কিভাবে মানুষের ভোগান্তি কমানো যায় এবং কাজ সহজ করা যায়।সহজিকরণ করার জন্য আমরা কাজও করছি। অবভিয়াসলি চ্যালেঞ্জ অটোমেশন।”

দেশের ভূমি অফিসগুলোকে অটোমেশনের কাজ অনেক আগে শুরু হলেও এখনও শেষ হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা বিভিন্নভাবে হচ্ছে, নানা কাজেও একটু সময় লাগছে।বিশ্বের অনেক দেশে বিশ থেকে পঁচিশ বছরও সময় লেগেছে। যে সময় অতিবাহিত হয়েছে সেটা অত বেশি বড় সময় না। একটু সময় লাগবে। আমরা মনে হয় এটা স্পিড আপ হয়ে যাবে।

মন্ত্রণালয়ে অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি জাতিকে বেশ ভালো কিছু দিতে পারব। আমি মনে করি পরবর্তী পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। তার অনেক আগেই… দুই বছরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের বিষয়গুলো অনেক গুছিয়ে নিতে পারব।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads
Ads