বাংলাদেশ সফরে এলেন আল-আকসা মসজিদের গ্রান্ড মুফতি

  • ২২-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

শনিবার ইউনাইডেট মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেবেন গ্রান্ড মুফতি। রোববার বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে গ্রান্ড মুফতির।

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল-আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাসের গ্রান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেন।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪.৩০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় আসেন।

বিমানবন্দরে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. কাজী  এরতেজা হাসান, চীফ কো-অর্ডিনেটর মজুমদার মোহাম্মদ আমিন, ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদুত ইউসুফ এস.ওয়াই রামাদান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী সেলিমা খাতুন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (পশ্চিম এশিয়া) এ. বি. এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার।

এ সফরে আল-আকসা মসজিদের গ্রান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেন শনিবার (২২ ডিসেম্বর) ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে তাঁর। আল-আকসা মসজিদের গ্রান্ড মুফতি রোববার (২৩ ডিসেম্বর) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. কাজী এরতেজা হাসান।

তিনি আরও বলেন, গ্রান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেনের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। তার মতো বুজুর্গ ব্যক্তির আগমনে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে ইসলামপ্রিয় জাতি হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে।

ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. কাজী এরতেজা হাসান আরও বলেন, আল-আকসা মসজিদের গ্রান্ড মুফতির আগমনে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে নতুন করে সেতুবন্ধুন তৈরি হবে। মুসলিম উম্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে বলেও জানান ড. এরতেজা হাসান। 

উল্লেখ্য, বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের ১ম কিবলা এবং মক্কা-মুআয্যামাহ ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান। হযরত রাসূলে করীম (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। হিজতের পর বায়তুল মুকাদ্দাসই ছিল ইসলামের প্রথম কিবলা। বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার অসংখ্য ভূখণ্ডের মতো কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়। এ পবিত্র ঘর থেকেই খাতামুন্নাবীয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা নবীগণের স্মৃতি বিজড়িত। এই পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয় বরং এই নাম সকল মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের মাজার। ওহী ও ইসলামের এ নগরী নবীগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত। হযরত ইবরাহীম (আ.) কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হযরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হযরত সুলায়মান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনঃনির্মাণ করেন। ৬৩৮ ঈসায়ী সালে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধিকারে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডারগণ সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেওয়ার পর বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গীর্জায় পরিণত করে।

এরপর ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর ও সিপাহসালার সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী জেরুজালেম শহর পুনরায় মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর হাতে পরাজিত হওয়ার পর খ্রিস্টশক্তি পিছু হটলেও ইয়াহুদী চক্র বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি লোলপ দৃষ্টি রাখে। তারা ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে সুদূর মদীনা পর্যন্ত সারা মুসলিম এলাকা নিয়ে বৃহত্তর ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করে। তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তুরস্কের তৎকালীন শাসক সুলতান আবদুল হামিদের নিকট ফিলিস্তিনে জমি কেনার অনুমতি চায় এবং এর বিনিময়ে তারা তুরস্কের সকল বিদেশি ঋণ পরিশোধ করে দেবে বলে অঙ্গীকার করে। সুলতান তাদের এ ষড়যন্ত্রমূলক প্রস্তাব মানেন নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইয়াহুদীরা গোপনে জমি কিনতে থাকে। ১৯১৭ সালে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে ও ১৯২০ সালে সেখানে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং স্যার হার্বাট স্যামুয়েল নামক একজন ইয়াহুদীকে সেখানে বৃটিশ কমিশনার নিযুক্ত করে। এই জমি কেনায় বহিরাগত ইয়াহুদীদের জন্য ফিলিস্তিনের দুয়ার খুলে যায়। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ইয়াহুদীবাদী উগ্র সংস্থাগুলোকে ফিলিস্তিনে বসবাস ও জমি কেনার জন্য কোটি কোটি ডলার প্রদান করে।

ফলে অতি অল্প দিনের মধ্যে বহু সংখ্যক ইয়াহুদী ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ইয়াহুদীদের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে আরব মুসলমানদের সাথে দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। অবশেষে বৃটিশ সরকার ফিলিস্তিনকে আরব ও ইয়াহুদীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। যার ফলে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যায়নবাদী অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর ইয়াহুদীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের কচুকাটা করতে থাকে। তাদের অত্যাচারে জর্জরিত আরবরা জীবন বাঁচাতে দলে দলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সত্ত্বেও তখনও বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দখলে ছিল। কিন্তু আরবদের দুর্বলতার মুখে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাঈল যুদ্ধে তা হাত ছাড়া হয়। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদ্স (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সংগ্রামে দিশেহারা হয়ে ইসরাঈল ফিলিস্তিনের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য ফিলিস্তিনের একটি ক্ষুদ্র অংশে সীমিত স্বায়ত্ত-শাসনের কথা বলে কিছু সংখ্যক নেতাকে বিভ্রান্ত করেছে। তথাকথিত শান্তি আলোচনার সুযোগে তারা একে একে ফিলিস্তিনের প্রকৃত সংগ্রামী নেতাদের হত্যা করে চলছে এবং ফিলিস্তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল করে ইহুদী বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ফিলিস্তিনে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে পর্যন্ত তারা বাধাদান করছে।

Ads
Ads