পল্টন ছাড়া কোথাও মাঠে নেই বিএনপি

  • ২-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে হরতাল ডাকলেও পল্টন ছাড়া কোথাও মাঠে নেই বিএনপি।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টায় শুরু হয়েছে হরতাল। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ২০১৫ সালে সবশেষ হরতাল ডেকেছিল বিএনপি। চার বছর পর হরতাল ডাকা হলেও এর সমর্থনে পল্টন ছাড়া আর কোথাও কোনো বিক্ষোভ মিছিল বা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শোনা যায়নি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও।

হরতালের শুরুতে ভোরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এরপর সকাল থেকে দলের সিনিয়র নেতারাসহ কর্মীদের নিয়ে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছে।

এদিকে হরতাল ডেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকলেও রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, রিকশা, সিএনজিসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।

এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ওই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের শুরু থেকে টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ করে। পাঁচ বছর আগের ওই আন্দোলনের সময় বাসে আগুন ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপসহ নাশকতার নানা ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষ মারা যায়। ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ বিরতী দিয়ে রোববার বিএনপি আবারও হরতাল ডাকলে কারও কারও মনে কিছুটা ভয় কাজ করে। তবে সকাল হতেই সেই ভয় উবে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন চাকরিজীবীরা। কর্মজীবীরাও ছোটেন কাজের সন্ধানে।

গাজীপুর-সদরঘাট রুটে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের চালক মিলন বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে কিছুটা ভয়ে ছিলাম। তবে রাস্তায় বের হয়ে সব ভয় দূর হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের ঝামেলা না হলেও হরতালের কারণে গাড়ি কিছুটা কম চলছে। এ কারণে আজ তেমন যানজট নেই। আমাদের ধারণা আস্তে আস্তে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও বাড়বে। দুপুরের দিকেই বেশিরভাগ গাড়ি রাস্তায় নেমে পড়বে।

একটি বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা আশরাফ বলেন, হরতাল হলেও আমাদের অফিস খোলা থাকে। তাই অফিসে যেতেই হয়। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম দেখি। তবে গাড়িতে উঠতে কোনো সমস্যা হয়নি এবং কোনো অঘটন ছাড়াই অফিসে এসেছি।

তিনি বলেন, যে যাই বলুক রাজনীতিতে বিএনপির সেই ধার আর নেই। বিএনপির পক্ষে এখন যে কোনো ধরনের আন্দোলন করা বেশ কঠিন। এছাড়া মানুষও এখন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। সবাই শান্তিতে বসবাস করতে চায়।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

আওয়ামী লীগের দুই মেয়রের বিজয় যখন অনেকটাই নিশ্চিত, তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন। পরে এই হরতালে সমর্থন দেন ঐক্যফ্রন্টসহ আরও কয়েকটি দল।

Ads
Ads