ঢাকার দুই সিটিতেই নৌকার জয় হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • ১-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ঢাকার দুই সিটিতে (উত্তর ও দক্ষিণ) আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা সিটি কলেজে নিজের ভোট প্রদান শেষে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করেন।

সকাল আটটায় দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট দিতে আটটার দিকে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে যান শেখ হাসিনা। ভোট দেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয় হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। আমি আহ্বান করবো, ঢাকাবাসীকে প্রত্যেকেই নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে ভোট দেবেন। ভোটটা স্বাধীনভাবে যার যার ইচ্ছামতো দেবেন। আমার ভোট আমি দিবো যাকে আমার পছন্দ তাকে দিবো। এই নিয়মেই চলবে। এবং সেভাবেই ভোট হবে। এই ভোটের মধ্য দিয়েই তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি জয়যুক্ত করবে। আমি আশা করি ইনশাল্লাহ, ঢাকা সিটিতে আমাদের দুইজন প্রার্থী। আমি অবশ্য ভোটার হচ্ছি ফজলে নূর তাপসের। তাপসকে আমি ভোট দিলাম। উত্তরে আতিক আমাদের প্রার্থী। আমি আশা করি সেও জয়যুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী ইভিএমে ভোট দেওয়া অত্যন্ত সহজ এবং সময় বাঁচায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি পর্যায়ক্রমিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে আমাদের নির্বাচন কমিশন। যাতে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত হয়। কেউ যেনো কারো ভোট কেড়ে নিতে না পারে।

সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দুই সিটির প্রায় আড়াই হাজার কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ৫৪ লাখ ভোটার ভোট দেবেন। নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটিতেই ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাড়ে সাতশ প্রার্থীর মধ্যে থেকে দুই সিটির জন্য তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন ঢাকাবাসী।

দুই সিটির মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটার ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। আর দক্ষিণ সিটিতে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪।

ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ১৮টি পদে ৭৭ জন লড়াই করছেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩২৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্তিা করছেন।

ঢাকা উত্তরে ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের ৭ হাজার ৮৪৬টি ভোট কক্ষে এবং দক্ষিণে ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।

শনিবারের নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি দল অংশ নিলেও মূলত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল-ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং ১৩ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে।

মেয়র পদে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আতিকুল ইসলাম। তার বিপরীতে ধানের ধীনের প্রতীক নিয়ে লড়বেন তাবিথ আউয়াল। মেয়র পদে আতিক-তাবিথের সঙ্গে উত্তর সিটিতে আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে নৌকার টিকিট পেয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। তার বিপরীতে বিএনপি থেকে লড়বেন অবিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন। মেয়র পদে তাপস-ইশরাকের সঙ্গে দক্ষিণ সিটিতে আরও পাঁচজন লড়াই করবেন।

সর্বশেষ ঢাকার দুই ভাগে ভোট হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগের পর এটাই দ্বিতীয় নির্বাচন। এর আগে একক সিটি করপোরেশন হিসেবে ঢাকা মহানগরে নির্বাচন হয়েছিল ২০০২ সালে।

Ads
Ads