বিশ্বনেতা শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক

  • ২৭-জানুয়ারী-২০২০ ১১:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ফের প্রমাণিত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এদেশের মানুষের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়নি। বরং দিনদিন এই আস্থার মাত্রা বাড়ছে। তিনি দেশের মানুষের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সগৌরবে দাঁড় করানোর চেষ্টায় কোনো ক্লান্তি নেই তার। এই প্রচেষ্টার ফলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেতা। বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার নামটি সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়ে থাকে। 

শেখ হাসিনার কর্মউদ্দীপনায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে, বেড়েছে জীবনযাত্রার মান এবং দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। তার নিরলস কর্মকা- বিশ্ব সভায় দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। যার প্রতিদানে বাংলাদেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে যা একটা জরিপে বেরিয়ে এসেছে। জরিপে বিএনপির ওপর ৬ শতাংশ মানুষ আস্থা দেখিয়েছে। এই ঘটনাটি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনাটির রয়েছে নানা তাৎপর্য। 

গত রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এটি প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ‘রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে এমন তথ্য উঠে আসে। ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রম’ শীর্ষক এ জরিপের দেশের মানুষের এই আস্থার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষের এই যে আস্থার বিষয়টি যা প্রধানমন্ত্রীকে আরো উদ্দীপ্ত একই সঙ্গে উজ্জীবিত করবে। তিনি বারবারই বলে আসছেন যে, কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে তিনি কোনো কাজ করেন না। দেশের মানুষ ভালো থাকুক। দু-মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকুক। তাদের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসুক এটাই তিনি চান। আর এটি করার জন্য তিনি কোনো কিছু আশা বা প্রত্যাশা করেন না। নিরেট সত্যি কথাই তিনি বলেছেন, দেশকে, দেশের মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসেন বলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বপরিমণ্ডলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। দেশকে দারিদ্রমুক্ত এবং উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর তিনি সুযোগ্য কন্যা। দেশকে নিয়ে জাতির জনকের প্রতিটি স্বপ্নকে তিনি বাস্তবরূপ দেওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আর সেভাবেই তিনি প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করে যাচ্ছেন।

আমরা বিপরীত চিত্রে কি পাই? বিএনপি ক্রমশ তার জনপ্রিয়তা এবং মানুষের  আস্থার সংকটে পড়েছে। তাদের জনবিরোধী কর্মকা- তাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।  ফলে  এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা জোর দিয়েই বলা যায়। দলটি ক্ষমতায় থাকার সময়ে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিবেদিত ছিল না, দলটি লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। কিভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা যায়, সে চেষ্টাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল। স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপিকে দোসর করে ক্ষমতায় এসে আরো বেপরোয়া গতিতে দেশকে নিঃশেষ ও ধ্বংস করতে ক্ষতিকর ভূমিকা নেয়। যার পরিণাম আজও ভোগ করছে দলটি। তাই তাদের নেতাদের বলতে হচ্ছে, বিগত দিনের কর্মকা-ের ক্ষতি এখনো তারা পুষিয়ে উঠতে পারেননি। এমনকি তার খেসারত এখনো দিয়ে চলেছেন। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য এমন সব কাজ করেছে, যা এদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে দলটি শত শত মানুষ হত্যা করেছে পেট্রোল বোমা ছুড়েছে। নীরিহ যাত্রীরা প্রাণ দিয়েছে। আগুণ দিয়ে সরকারি তথা সাধারণ মানুষের সম্পদ বিনিষ্ট করেছে। দলটির এই যে কর্মকা- তা কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ ভুলে যায়নি। বিএনপি চালিত সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর স্মৃতি তাদের চেতনা থেকে মুছে যায়নি। 

দলটি এতটাই ক্ষমতালোলুপ যে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া। ফলে প্রতিনিয়ত মিথ্যাকে আশ্রয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে দোষারোপে ব্যস্ত থেকেছে। সরকারের সাফল্যগুলো একবারের জন্যও স্বীকার করতে চায় না। যা কোনভাবেই একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক দলের চরিত্র হতে পারে না। বিএনপি মিথ্যার বেসাতি করতে গিয়ে নিজেকেই ভয়াবহ ক্ষতি করেছে। এ থেকে তাদের উঠা আসা আদৌও সম্ভব হবে কি-না তা বোদ্ধারাই ভালো বলতে পারবেন। এসব কারণেই বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। যার গণিতিক হিসাব ৬ শতাংশ। 

আমরা বলতে চাই, বিশ্বনেতা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিশ্বের যে কোনো দেশের সরকার প্রধানের জন্য একটি আদর্শ। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো, এ দেশে এখনো এমন কিছু জ্ঞানপাপী রয়েছেন, যারা  শেখ হাসিনার গৌবর গাঁথাকে মোটেই আমলে নিতে চান না। দেশ বর্তমানে যে উচ্চশিখরে অবস্থান করছে তা শেখ হাসিনার সুদক্ষ রাষ্ট্রপরিচালনার ফল। এটা দেশের জ্ঞানপাপীরা স্বীকার না করলেও জনগণ স্বীকার করেন। আর এটা করেন বলেই দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ তার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছে। এই আস্থাশীলতার ঘটনা এমনি এমনি ঘটেনি। 

দেশের প্রভূত উন্নতি ঘটার ফলেই তা সম্ভব  হয়েছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থেকে যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিল, তারা সবসময় স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে কাজ করেছে। বলা চলে তারা ছিল পাকিস্তানপন্থি। ক্যান্টনমেন্টে সৃষ্ট বিএনপি দলটিও এই বাইরের নয়। তারা এখনো বর্বর পাকিস্তানিপন্থিই রয়ে গেছে। প্রতিমুর্হূর্তে তাদের কথায় সেটার প্রমাণ মেলে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, দলটি প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চায় নিজেদের অতীত থেকে শিক্ষা নেবে।  

পরিশেষে আবারও বলতে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মগুণে এদেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাক। দেশ যেভাবে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে তার যেন কোনো ছেদ না পড়ে এবং তিনি দেশের যারা শক্র তাদের ব্যাপারে সদাসতর্ক থাকবেন এটাও আমরা মনে করি। দুর্নীতি দেশকে কাক্সিক্ষত জায়গায় পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত করে। যা রাহুরমত আটকে রাখে। তবে আনন্দের বিষয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি জেহাদ ঘোষণা করেছেন। তার প্রশাসনকে তিনি জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং তার শিকড় উপড়ে ফেলার যে লড়াই তিনি শুরু করেছেন তার সফলতা দেশ এবং জাতির জন্য সুন্দর ভবিষৎ নিয়ে আসবে এ বিশ্বাস দেশবাসীর। আমরা মনে করি তার এই অবস্থান  প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।   

Ads
Ads