মাদকের বিরুদ্ধে বিপ্লব গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • ২৭-জানুয়ারী-২০২০ ০৮:৫২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মাদকের বিরুদ্ধের নীরব বিপ্লব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে তিনি বলেন, মেধা কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি বলেন, সর্বনাশা মাদকে পুরো দেশ ছেয়ে গেছে। তা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও। তাই যেভাবেই হোক দেশকে মাদকমুক্ত করতে হবে। তা না হলে আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের যেসব স্থান দিয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করে তার মধ্যে কুমিল্লাও আছে। আমি এখানকার জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকলের প্রতি আহ্বান জানাবো মাদক প্রতিরোধে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিক্ষায় সমৃদ্ধ জেলা কুমিল্লা। মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লার বীরত্বপূর্ণ অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কুমিল্লার শালবন বিহার, ময়মনামতি যুদ্ধসমাধি সবকিছু ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। কুমিল্লার বিখ্যাত খাদি কাপড় ও রসমলাইয়ের রয়েছে অনেক সুনাম। 

আবদুল হামিদ বলেন, শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধ পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জনের স্থান। র‌্যাগিং ও টাকা নষ্ট করার স্থান নয়।

শিক্ষার্থীদের দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। শুধু নিজেকে নিয়ে নয়; মানুষ ও সমাজের কথা ভাবতে হবে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমাদের এবারের সংগ্রাম- সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপ মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রফের কাজী শহীদুল্লাহ।

সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব। নিশ্চয়ই শিক্ষা মানুষের চেতনার  ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটায়। মুক্তচিন্তা ও মননের বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা মানুষকে করে তোলে উন্নত জ্ঞানের অধিকারী। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও প্রচ্ছন্ন শক্তি, লোকায়িত সামর্থ্য ও যোগ্যতার প্রসার ঘটিয়ে মানবসম্পদে পরিণত করা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সেরকম করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৩-১৪ ও স্নাতকোত্তর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ৫৬৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিগি প্রদান করেন। এ ছাড়াও তিনি ১৪ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।      

Ads
Ads