প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে

  • ২৫-জানুয়ারী-২০২০ ১১:০৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। নিত্যপণ্যের দাম কোনোভাবেই লাগাম টেনে  ধরা যাচ্ছে না। এতে সরকার কেন ব্যর্থ হচ্ছে আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। এক পেঁয়াজই সরকারকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। বেশ কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের দাম লাগামের মধ্যে আনা যায়নি। যে পেঁয়াজ ছিল ৩০-৪০ টাকা। তা ২৫০ টাকায় উঠে আসে। বর্তমানে যদিও ২০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে  পেঁয়াজ। কিন্তু তাও ভোক্তাদের ক্রয়ের বাইরে। 

আমাদের দেশে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেলে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা কষ্টকর হয়। বলা চলে কোনো জিনিসের দাম একবার বেড়ে গেলে তাকে আর তার পূর্বাবস্থায় আনা সম্ভব হয় না। প্রশ্ন হলো কেন হঠাৎ হঠাৎ দাম বাড়ে। পণ্যের সংকট কি এই দাম বাড়ার মূল কারণ? কিন্তু যারা নিত্যপণ্যের বাজারের ওপর নজর রাখেন তাদের বক্তব্য হলো অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে তোলে। এ জন্য তাদের খুব একটা জবাবদিহি করতে হয় না। বলা যায় তারা ইচ্ছেমাফিক এ কাজটি করেন অতি মুনাফার লোভে। কিন্তু আমরা জানি যে এতে নিম্নবিত্ত কতটা সমস্যায় পড়েন। যারা দু’মুঠো ভালো খেতে পায় না, তাদেরকে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। প্রায় অনাহারে দিন কাটাতে হয়। 

বর্তমানে বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম চড়া। সে শাকসবজি থেকে শুরু করে চাল-ডাল-আটা সকল কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে নিম্নবিত্তদের উপর ভয়ানক চাপ পড়েছে তাই শুধু নয়- প্রতিটি মানুষের উপর এর বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের কি কাজ আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। তাদের চোখের সামনেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ তাদের কোনোভাবেই রোখা যাচ্ছে না। কিন্তু কেন তাদের রোখা যাচ্ছে না, তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে। তারা কি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। তারা যখন খুশি তখনই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। আর এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে, তা তো হতে পারে না। আরও লক্ষ্যযোগ বিষয় হলো- অন্যদেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়ার যৌক্তির কারণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। হুটহাট করে দাম বাড়ানো হয় না। যথেষ্ট কারণ থাকে দাম বাড়ানোর। ওসব দেশের ব্যবসায়ীরা সরকার এবং ভোক্তাদের কাছে জবাবদিহিতা করে থাকেন। তারা খুশি মতো দাম বাড়ান না। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম সেটা সবাই স্বীকার করবেন। কিন্তু এ অবস্থা আর কতদিন চলবে ? আর কতদিন এটা চলতে দেওয়া যায় ? তার জবাব সরকারের দায়িত্বশীলদের দিতে হবে।

সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়া আরও যারা দায়িত্বশীল রয়েছেন তাদের উচিত হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্ণ করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া। আমাদের ধারণা হয় যে, অসাধু ব্যবাসয়ীরা নতুন করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিমুনাফা লোটার সুযোগ পেয়েছে এমনটি নয়। এটা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটে আসছে। অথচ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের এই অপকর্ম রোধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা পুরোই  ধোঁয়াশাম-িত। 

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় বলা হয়, নিত্যপর্ণ্যর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দেখার বিষয় হলো- গণামধ্যমগুলো প্রতিনিয়তই খবর পরিবেশন করছে যে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম চড়া। গণমাধ্যমে এমন খবরও দেখা যায় যে, সরকার থেকে কি ব্যবাসায়ী সিন্ডিকেট বেশি ক্ষমতাধর? এ প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় সরকারের জানা রয়েছে। এবং আমরা মনে করি সরকার থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা কখনোই ক্ষমতাধর হতে পারে না। ফলে সরকার তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন ব্যর্থ হচ্ছে? তাহলে কি অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে যারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা যোগ দিয়েছেন ? আমরা অবশ্য এমনটি বিশ^াস করতে চাই না। আর যদি ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে বলতে হবে ঘটনা খুবই সাংঘাতিক। বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকার এবং ভোক্তাদের সঙ্গে বিশ^াসহীনতার কাজ করছেন। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, প্রতিটি পণ্যের দাম চড়া হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম  ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে এনে সরকারকে বলতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের তারা শাসন করতে জানে। এবং তারা সরকারের চেয়ে ক্ষমতাবান নয়। 

Ads
Ads