‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ : তারা বেঁচে থাকলে এই রায়ে খুশি হতেন

  • ২১-জানুয়ারী-২০২০ ১১:০৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

অবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। বত্রিশ বছর পরে হলেও রায় ঘোষণার ফলে হতাহতদের আত্মীয়স্বজন অশ্রুসজল চোখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালতের দীর্ঘসূত্রিতার ফলেই হতাহতদের আত্মীয়-স্বজনদের বিচার পেতে এত দীর্ঘ সময় লেগে গেল। যা হয়তো কারোরই কাক্সিক্ষত ছিল না। হতাহতদের আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই বিচারের রায় দেখার আগেই মারা গেছেন। তারা বেঁচে থাকলে এই রায়ে খুশি হতেন। 

লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল।  সেদিন তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন-‘আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা, গুলি চালাবেন না’। পরম করুনাময়ের অশেষ রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পতিত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং তাকে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে নামানোর লক্ষ্যে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেসময় চট্টগ্রামের পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে জনসভায় গুলি চালানো হয় এবং এতে ২৪ জন প্রাণ হারান।

নজিরবিহীন এই ঘটনায় সারাদেশে ধিক্কার ওঠে। স্বৈরাচার এরশাদ পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আর বেশিদিন টিকতে পারেননি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন গতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগের কঠোর আন্দোলনের ফলেই এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হয়। লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার পরেও কিন্তু হামলা থেমে থাকেনি। বহুবার তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। করুনাময় আল্লাহ প্রতিটি হামলা থেকে তাকে রক্ষা করেছেন। সবচেয়ে বড় হামলা ছিল গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলা। এই হামলা চালিয়েছিল সে সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্ররোচনায় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। এই মামলারও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশী সকলে।

জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে পাকিস্তান ভাবাদর্শের মানুষজনকে ক্ষমতার চারদিকে জড়ো করতে থাকেন। এবং তিনি দেশকে পাকিস্তান বানানোর লক্ষ্যে সমস্ত কর্মকাণ্ড  পরিচালনা করেন। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতি করাসহ ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করার সুযোগ পান। এরশাদও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনিও অনেকটা জিয়ার পথ অনুসরণ করে চলার চেষ্টা করেন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে থাকেন। এভাবে নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি। অন্যদিকে আন্দোলনের গতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মারমুখী হয়ে পড়েন স্বৈরাচার এরশাদ। ফলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা  করা হয় লালদীঘি ময়দানে। 
পরিশেষে বলতে চাই, ৩২ বছর পরে হলেও ‘গণহত্যার’ ঘটনায় আদালত রায় দিয়েছে। এতে দোষিদের অনেকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শেষ হলে ঘটনায় হতাহতের আত্মীয়-স্বজনরা স্বস্তি পেতেন।

Ads
Ads