ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ

  • ১৫-জানুয়ারী-২০২০ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। চারদিন বিরতির পর কঠোর নিরাপত্তা আর ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাওলানা সা’দ অনুসারীরা এ ইজতেমায় অংশ নেবেন।

জানা গেছে, ইজতেমা ময়দানের মাঠের ভেতর বালি ভরাটসহ সব ধরনের কাজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হবে। এর আগে প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের পর প্যান্ডেলের ভেতর ময়লা পানি প্রবেশ করে।

এদিকে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বও শুক্রবার হওয়াতে ইজতেমা মাঠে বৃহত্তম জুমার নামাজ হবে। তবলিগ অনুসারী ছাড়াও জুমার নামাজে ঢাকার উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন। 

ইজতেমা উপলক্ষে তবলিগ জামাতের দেশি-বিদেশি লাখো মুসল্লির গন্তব্য এখন তুরাগ তীরে। বৃহস্পতিবার থেকেই প্রস্তুতিমূলক বয়ান শুরু হবে বলে জানান ইজতেমা আয়োজক মুরব্বীরা। এ পর্বেও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে থাকছে বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস। নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও বিশ্ব ইজতেমার পুরো ময়দান সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় পর্বেও তুরাগ পাড়ের প্রায় ১৬০ একর এলাকা জুড়ে বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে ইজতেমার মূল সামিয়ানা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে করে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসুল্লিরা অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সা’দ অনুসারি মুসল্লিরাও অংশ নিয়েছেন মাঠ প্রস্তুতের জন্য। এবারও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে থাকছে বাস ও ট্রেনের বাড়তি ব্যবস্থা। 

তবলিগের বিভিন্ন মেয়াদের চিল্লায় থাকা আর ইজতেমার দাওয়াতের কাজে যারা ছিলেন সেসব মুসল্লিরাও দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসছেন। তুরাগ নদী পারাপারের জন্য সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্রথম পর্বের আগেই ভাসমান ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। এ ব্রিজ এ পর্বেও থাকবে। 

এছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় পর্বেও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, সিসিটিভি বসানো হয়েছে। বিদেশিদের জন্য থাকছে আলাদা স্বাস্থ্য ক্যাম্পও। বিদেশি নিবাসে গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা প্রথম পর্বের ন্যায় এ পর্বেও করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার রাতে মাঠ পরিদর্শনে এসে বলেন, সরকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা মাঠে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এর মধ্যে ১৩টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও প্রায় সাড়ে তিন কোটি গ্যালন খাবার ও অজু গোসলের পানি সরবরাহ করা হবে। আট হাজারের বেশি মুসল্লি একসঙ্গে প্রসাব পায়খানাও করতে অসুবিধা হবে না। 

তিনি আরো বলেন, দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রথম পর্বের ন্যায় এ পর্বেও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আমরা ইজতেমা ময়দানে তাদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে অবস্থান নিতে পারবেন।

এর আগে গত সোমবার রাতে জেলা প্রসাশনের মাধ্যমে মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের কাছে  থেকে মাওলানা সা’দ অনুসারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়।

Ads
Ads