গার্মেন্ট এক্সেসরিজ তৈরির ১০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে: বিজিএপিএমইএ

  • ১৩-জানুয়ারী-২০২০ ০৭:০১ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের সদস্যভুক্ত প্রায় ১০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গার্মেন্ট শিল্পের মতো এই খাতের সঙ্গে জড়িতরাও সরকারের প্রণোদনা চেয়েছেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএপিএমইএ’র উপদেষ্টা ও সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী এ কথা জানান। এসময় সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাদের খান উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পোশাক শিল্প পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এ বিষয়ে বিস্তুারিত তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রদর্শনীর  আয়োজক বিজিএপিএইএ এবং জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্যমতে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন, ক্রয়াদেশ সংকট, কারখানার ত্রুটি সংশোধন, সর্বোপরি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে গত বছর প্রায় ৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে।

রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি আমাদের সদস্যভুক্ত ১০০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের ব্যবসায় টিকে থাকতে সরকারের সহায়তা চাই। আমরা যেন বিজিএমইএর সদস্যদের মতো সব-সুযোগ সুবিধা পাই।

তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের সহযোগী হিসেবে সরঞ্জাম ও মোড়কীকরণ উপখাত হিসেবে আমরা কাজ করছি। তবে সম্প্রতি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও মোড়কীকরণ পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।

বিজিএপিএই’র এই নেতা জানান, বর্তমানে বিজিএপিএই’র সদস্য এক হাজার ৭০০। যারা গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং মোড়কীকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা প্যাকেজিং সেক্টরে কাজ করে।

রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের যেন মিনিমাম প্রণোদনা দেয়া হয়। আমরা পাঁচ শতাংশ প্রণোদনা প্রস্তাব করেছি। আমাদের ব্যাংকিংখাতে সুদ যেন মিনিমাম রাখা হয়। আমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছি বন্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে। যাতে আমাদের সহজীকরণ করা হয়। এ বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেছি।’

বন্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে এনবিআরের কাছে কী সহায়তা চেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএপিএমইএ’র উপদেষ্টা বলেন, ‘পোশাকশিল্পের কতগুলো বিষয় অথরিটি বিজিএমইএকে দেয়া হয়েছে। ঠিক সেইভাবে অথরটিগুলো যদি আমাদেরও দেয়া হয় তাহলে এটা অনেক ক্ষেত্রে সহজীকরণ হবে। এর মধ্যে দুটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। একটি বিষয় হলো ইউটিল্যাইজেশন পারমিশন, যেটা ৯০ দশকে বিজিএমইএকে দেয়া হয়েছে। এই পারমিশনটা বিজিএমইএ’র সদস্যরা সহজভাবে পেতে পারেন। তারা কম সময়ে এবং কম ঝামেলায় এটা পান। আর যেটা প্রাপ্য বলা হয়ে থাকে সেটিও যদি আমাদের অ্যাসোসিয়েশনকে দেয়া হয় তাহলে সদস্যদের আমরা সহজভাবে সার্ভিস দিতে পারি, এই জায়গায় একটা জটিলতা হয়। সেটা দূর করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।’

বিজিএপিএই’র সদস্যদের বিরুদ্ধে বন্ডের অপব্যবহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে  সংগঠনটির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘এর সংখ্যা পাঁচ শতাংশ হতে পারে। তবে আমরা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কোনো অভিযোগ এলে সেটা প্রমাণিত হলে সদস্যপদ বাতিল করার পদক্ষেপ নিয়ে থাকি আমরা।’

দেশের পোশাকখাতের উন্নয়নে মেশিনারি, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক্স, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং মেশিনারি ও সাপোর্ট সার্ভিস নিয়ে ১৫ জানুয়ারি চার দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। আইসিসিবির ১০টি হলজুড়ে ২৪ দেশের ৪৫০ প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পোশাক শিল্পের মেশিনারি এবং এর সহায়ক পণ্যের ১৯তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে ১৫ জানুয়ারি। প্রদর্শনীগুলো হলো- গার্মেন্টেক বাংলাদেশ-২০২০, ১১তম ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক্স সোর্সিং ফেয়ার-২০২০, ১১তম গ্যাপ এক্সপো-২০২০ এবং প্যাকটেক বাংলাদেশ-২০২০। প্রদর্শনীর পর্দা নামবে আগামী ১৮ জানুয়ারি (শনিবার)।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী টিপু সুলতান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের পোশাকখাত। এ অবস্থায় এ খাতকে উৎপাদন, নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, দক্ষতা, পণ্যের মান, বৈচিত্র্য এবং মোড়কজাতকরণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ১৯তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর গার্মেন্টেক বাংলাদেশ-২০২০ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আব্দুল কাদের খান বলেন, আমাদের এ প্রদর্শনী সম্মিলিতভাবে আয়োজন করেছে জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আসক ট্রেড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড এবং বিজিএপিএমইএ। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, কানাডা, স্পেন, ফ্রান্সসহ ২৪টি দেশের ৪৫০ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Ads
Ads