প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব জয়নুল আবেদীনকে নিয়ে ড. এরতেজা হাসানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

  • ১৮-Dec-২০১৯ ০২:২৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি মারা যান। 

সন্ধ‌্যার পর থেকেই এমন একটি সংবাদ শোনার পর মনটা বিষাদগ্রস্ত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে একটাই প্রার্থনা করছি, আল্লাহ যেন আমার জয়নুল আবেদীন ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম) ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২৩ ডিসেম্বর গণভবনে আমার সম্পাদিত ‌'জননেত্রী শেখ হাসিনার ধর্মচিন্তা' বইটি উপহার হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সেদিন জয়নুল আবেদীন ভাই আল আকসা মসজিদের প্রধান ঈমামের সামনে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেভাবে উপস্থাপন করেছিলেন তা আমার আমৃতু্য মনে থাকবে। কারণ তিনি সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ‌' কাজী এরতেজা হাসান আমাদের আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। একাদশ নির্বাচনের আগে জামায়াত বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে 'জননেত্রী শেখ হাসিনার ধর্মচিন্তা' বইটি ব্যাপকভাবে বিতরণ করার পাশাপাশি গণমা‌ধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।' এমন কথা শোনার পর সত্যিকার অর্থেই মনটা ভরে গিয়েছিল। 

এছাড়া আল আকসা মসজিদের ঈমানের বাংলাদেশ সফরের সব খুটিনাটি নিজে থেকেই তদারকি করেছেন মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম)। এরপর বাংলাদেশে ইজতেমা জাময়াতের বিভক্তি রোধের সময় খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রেখছেন। এমনকি আমি ব্যাক্তিগতভাবে ভারতের মাওলানা সাদপন্থী হওয়ায় এবং তিনি নিজে চট্টগ্রামের হওয়ায় হেফাজতে ইসলামের আমির শফী হুজুরের মাধ্যমে বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। 

মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হওয়ার কারণে তার সঙ্গে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছি। অত্যন্ত বিনয়ী, ধর্মপরায়ণ জয়নুল আবেদীন ভাই আমার খোঁজখবর নিয়েছেন সব সময়। সর্বশেষ পবিত্র মক্কা মদিনাতেই তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। এটাই ছিল তার সাথে সর্বশেষ দেখা। এর আগে ৪ বার যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে, ভারত, জাপান, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব সফরে তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহের ছায়ায় বেঁধে রেখেছেন নিয়মিত। 

এমন একজন সুহৃদ, মানবিক, পরোপকারী, বিনয়ী মানুষ হিসাবে  মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম)'র বিদায়ে আমি ব্যাথিত। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলীমিন আমার এই ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

Ads
Ads