পাটকল শ্রমিকদের সমস্যার সুরাহা হওয়া জরুরি

  • ১৩-Dec-২০১৯ ১০:৫২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

নিয়মিত মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্টায়ত্ত ৯ পাটকলের হাজারো শ্রমিক আমরণ অনশন শুরু করেছেন। সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম, জেজেআই ও কার্পেটিং মিলের শ্রমিকরা নিজ নিজ পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রেখে মিলের প্রধান ফটকে মঙ্গলবার বিকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল শুক্রবারও তা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া যশোরে দুটি পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। শ্রমিকরা এই শীতের রাতে তাঁবু টাঙিয়ে সড়কেও অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার সকালে অনশনে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল একজন মারাও গিয়েছেন। এদিকে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দীর্ঘক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং এতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, বিশেষত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবির সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি, তবে দাবি-দাওয়া পূরণের এ আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। আমরা মনে করি, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি হতে পারে না। এমন সব মুহূর্তে তাদের ঘরে ফেরাতে ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিত। সে হোক আন্দোলনকারী নেতাদের মাধ্যমে, হোক সে প্রশাসনিক উপায়ে। কারণÑ দাবি থাকতেই পারে, তাই বলে সেই দাবি আদায়ে মানুষ মরবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তদেও কীভাবে আন্দোলনকারী নেতারা আন্দোলনে রাখতে মনোনিবেশ করেন, সেটা আমাদেও ভাবিয়ে তোলে। পাটকল শ্রমিকদের এই আন্দোলন কেন, যুক্তিযুক্ত কিনা তা ভেবে নিশ্চয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। 

আন্দোলনকারীদের দাবি ও আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি, সব সেক্টরে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হলেও পাটকল শ্রমিকদের বেলায় অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছে। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও পিপিপি বাতিলসহ ১১ দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। এর আগেও এমন আন্দোলন তারা করেছেন। তখন তাদের অনেক বেতন বকেয়া ছিল। খলিলুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বাসায় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতিমন্ত্রী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার মিটিংয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু শ্রমিক নেতারা মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবে বলে জানান। এদিকে অনশন কর্মসূচির কারণে পাটকলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে বিআইডিসি সড়কের দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের দায় কোনোভাবেই তাদের ওপর চাপানো চলে না। কথা হচ্ছে, বেসরকারি পাটকলগুলো যদি লাভজনক হতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে কেন প্রতি বছর লোকসান গুনতে হবে? শ্রমিকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে যখন পাটের দাম কম থাকে, বিজেএমসি তখন পাট না কিনে পরে বেশি দামে কেনে। সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ার যে অভিযোগ করেছে বিজেএমসি, তারও কোনো সারবত্তা নেই। দ্বিতীয়ত, সরকারি পাটকলগুলোর বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব পণ্য বিক্রির দায়িত্ব নিশ্চয়ই পাঠকলগুলোর কর্তৃপক্ষেরই, শ্রমিকদের নয়।
প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বর্তমান শোচনীয় অবস্থা একদিনে হয়নি। বিজেএমসির কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা আজ এ অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে শ্রমিকদের। তারা ব্যক্তিগত লাভের ব্যাপারেই বেশি উৎসাহী।

Ads
Ads