গণপূর্তের পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হচ্ছেন মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ!

  • ১২-Dec-২০১৯ ০২:৫০ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস
সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর মধ্যে একটি গণপূর্ত অধিদপ্তর। আগামী ৩১ ডিসেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগেই শুরু হয়ে গেছে কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী? গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি নিয়ে আলোচনায় সরগরম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সংস্থাটির সব দপ্তর। সরকারের গ্রেড-১-এ পদে থাকা বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টায় থাকলেও নতুন করে একই পদে তার চাকরির মেয়াদ বাড়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যেই টেন্ডার কিং খ্যাত জি কে শামীমের সাথে অনৈতিক লেদদেন এবং সখ্যতার বিষয়টি সামনে আসায় সাহাদাত হোসেনে প্রধান প্রকৌশলী পদে আবারো মেয়াদ বাড়ানো সম্ভাবনা শূণ্যের কোঠায় রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টারা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সরকারের উচ্চ পদস্থ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ভোরের পাতাকে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করে জানিয়েছে,  সরকারের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার পেতে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখান থেকে সবচে সৎ এবং যোগ্য অফিসারকেই বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও গণপূর্তের কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিষয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে কয়েকজনের মধ্যে সবচে এগিয়ে রয়েছেন গণপূর্ত ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলী এবং ঢাকা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ। 

বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ১৫ ব্যাচের মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব শুরু করে পরবর্তী সময়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ফেনী ও শেরেবাংলা নগরে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির পাওয়ার পর শেরেবাংলা নগর ও দীর্ঘ সময় প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে সমন্বয় বিভাগে ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালন করেন এ প্রকৌশলী। বর্তমানে মোসলেহ উদ্দিন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা-জোন) হিসেবে কর্মরত। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অন্যান্যদের তুলনায় তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক অথবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন, গণপূর্তের ১৫তম ব্যাচের মো. আশরাফুল আলম। বগুড়ার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন আশরাফুল। এরপর তিনি ঝিনাইদহ জেলায় উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, বগুড়া, রাজশাহী, শেরেবাংলা নগরে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে শেরেবাংলা নগর (ডিভিশন-১), গাইবান্ধা, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা-ডিভিশন-১), মেডিকেল ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল ও বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে রংপুর জোনের দায়িত্বে রয়েছেন। চাকরিতে থাকাকালে নিজ দপ্তর বা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকলে আশরাফুল আলমই পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে নানা সময় কিছু অভিযোগ উঠেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুলশানে স্ত্রীর নামে কেনা একটি অভিজাত ফ্ল্যাট বিক্রির খবরও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে তিনি নামে বেনামে কত সম্পত্তির মালিক হয়েছেন সে বিষয়েও নজরদারি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার সিরিয়ালে প্রথম থাকলেও তার নাম কাটা যেতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 
 
এছাড়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেট্রোপলিটন জোন) ড. মইনুল ইসলামও জোরেশোরেই প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসতে নানান জায়গায় দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। বরিশালের বাসিন্দা মইনুল ইসলাম
১৫তম ব্যাচের প্রায় সবাই সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যোগদান করলেও তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট যোগদান করেন। এরপর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মানিকগঞ্জ, শেরেবাংলা নগরে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে খুলনা ও চুয়াডাঙ্গায় এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা সার্কেল-৪ ও সংস্থাপনে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে চাকরি জীবনে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তার নিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। ৯ বছর ৮ মাস ২২ দিন চাকরিতে না থাকায় এ প্রকৌশলী গত কয়েক বছর আগে চাকরি থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতিও পেয়েছিলেন। এছাড়া বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমের কোম্পানির নামে পাওয়া র‌্যাব সদর দপ্তর নির্মাণের দরপত্র আহ্বানেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এ দরপত্রটি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ থেকে আহ্বানের কথা ছিল। কিন্তু এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মইনুল ইসলামের দপ্তর থেকে করা হয়েছে এবং তিনি ছিলেন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রধান।

ভোরের পাতাকে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রটি জানিয়েছে, বরাবরের মতোই এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দেই যোগ্য ও সৎ অফিসারকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসানো হবে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যারা যারা এ পদের জন্য যোগ্য তাদের সকল অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করে একটি রিপোর্ট দাখিল করার জন্য। ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের একটি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিনকেই সবার ওপরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। সেক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর পর এই মোসলেম উদ্দিনই হতে পারেন গণপূর্তের পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী। 

Ads
Ads