থানার ওসি আসামি ছেড়ে দিয়ে, সাংবাদিকদের 'ম্যানেজ' করার চেষ্টা

  • ১১-Dec-২০১৯ ০৮:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পুলিশের বিশেষ অভিযানের নামে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লাখ টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত দুই মাদক বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিমের বিরুদ্ধে। যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার, সেখানে ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জের এমন কর্মকাণ্ডে রীতিমত আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটার সময় শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার মাদকের আড়ৎদার ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আলমের বাড়িতে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম ও এসআই আরিফসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় আলমের বাড়িতে আলম ও আরেক চিহ্নিত মাদক কারবারি সুমীসহ ফারুক (৩০), আলাদিন (১৯), আলিফ (২২) ও রোকন (২০) নামে আরো চারজনকে আটক করা হয়। তবে আটককৃত সুমী এবং আলমের দেহ তল্লাশী করে কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি পুলিশ।

এ সময় মাদক না পেয়েও সুমী ও আলমকে নিয়ে যেতে চাইলে আটককৃত মাদক কারবারি ও পুলিশের মাঝে দরদাম চলতে থাকে। সুমী ও আলমকে ছেড়ে দেবে এবং আটকৃত অপর চার জনকে ৩৪ ধারায় মামলা দেওয়া হবে এমন শর্তে একলাখ টাকা রফাদফায় রাজি হন শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম। পরে সুমী ও আলমকে ছেড়ে দিয়ে আটককৃত চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কথা মতো এক লাখ টাকার মধ্যে সুমী ও আলমের কাছ থেকে রাতেই ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। আর বাকি টাকা আজ দুপুরে দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ আটককৃত চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় এমন খবর সুমী ও আলমের কাছে পৌঁছলে তারা শর্ত ভঙ্গের ক্ষোভে রফাদফার পুরো ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুমী জানান, আমি ও আলমকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার ও গ্রেপ্তার হওয়া বাকি চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার মোট ১ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং রাতেই ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু এখন কেন পুলিশ ঐ চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিবে?

অপর মাদক কারবারি আলম জানান, আমাদের কাছে কোনো মাদক পায়নি। তারপরেও আমরা যেহেতু আগে মাদক ব্যবসা করতাম তাই আমাদেরকে চালান দিবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ। পরে আমাকে ও সুমীকে ছেড়ে দিতে নগদ ৫০ হাজার টাকা নেয় পুলিশ এবং বাকি চার জনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার টাকা আজ দুপুরে দেওয়ার কথা।

এ ব্যাপারে ভৈরব পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়াও ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না জানিয়ে শেষ সুযোগ চেয়ে উৎকোচ দিয়ে সাংবাদিকদের মেনেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিন জানান, টাকা নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ওসি সেলিমের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হবে।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে আটককৃত চারজনকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলেও পুরো ঘটনাটি অবহিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে আসামিদেরকে ভৈরব থানায় হস্থান্তর করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরেও কেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানা বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করেছে। তাই এ বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। 

Ads
Ads