নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রূপায়ন টাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শ্রীলঙ্কান নারীর লাশ উদ্ধার

  • ৯-Dec-২০১৯ ০৮:৫২ অপরাহ্ন
Ads

:: নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ::

নারায়ণগঞ্জে রূপায়নের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে রেবেকা নির্মানি চাপা ওরফে বান্দেরা নামে শ্রীলংকান নাগরিক এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় এলাকায় অবস্থিত রূপায়ন টাউনের ১১ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এই শ্রীলংকান নারী সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত কুনতুং এ্যাপারেলস নামে একটি বিদেশী বায়িং হাউজে সাত বছর যাবত মারচেন্ডাইজার পদে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ময়না তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন। 

রূপায়ন টাউনের বাসিন্দারাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রূপায়ন টাউনের ৭ তলা এই ভবনটি দীর্ঘদিন আগে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য কিনে নেয়। ২৮টি ফ্ল্যাটের সবগুলোতেই ভারতীয় এবং শ্রীলংকান নাগরিকরা বসবাস করেন। এছাড়া ভবনটি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় বিনা অনুমতিতে বহিরাগত কারো প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। ভবন বাসিন্দারা প্রতিদিন ভোরে নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান এবং বিকেলে ফিরে আসেন। ভবনের বাইরের অন্য কারো সাথেই তারা মেলামেলা করেন না। নিজেদের মেতাই চরাফেরা করেন তারা। 

২৮ বছর বয়সী শ্রীলংকান অবিবাহিতা নাগরিক রেবেকা নির্মানি চাপা ওরফে বান্দেরা চার বছর যাবত ভবনটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে তার ফুফু কুমুদিনি বান্দেরার সাথে বসবাস করে আসছেন। রুজি নামে একজন গৃহপরিচারিকা তাদের ফ্ল্যাটে কাজ করেন। সোমবার সকাল এগারোটায় তিনি কাজ করতে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে রূপায়ন গ্রুপের কর্মকর্তাদের জানালে ফতুল্লা থানা পুলিশ দরজা ভেঙ্গে রেবেকার লাশ উদ্ধার করে।

এসময় তার দেহ সিলিং ফ্যানের সাথে দুইটি ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। পরে রেবেকার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী, ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ও সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের সহকারি কমিশনার রুবানা আক্তার, রূপায়ন গ্রুপের উপদেষ্টা এবং সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

রূপায়ন টাউনের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এতো বিস্তর নিরাপত্তার মধ্যে ও যদি এইভাবে কোন বিদেশী নাগরিকের মৃত্যু হয় তাহলে অন্যান্য বিদেশী নাগরিকরা নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়বেন। এর ফলে বিদেশীরা আমাদের দেশে বিনিয়োগের আস্থা হারিয়ে ফেলবে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।

এদিকে রেবেকার মোবাইল ফোনে দুই বিদেশী যুবকের সাথে প্রেমের প্রস্তাব সংক্রান্ত ম্যাসেজ আদান প্রদানের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান রূপায়ন গ্রুপের উপদেষ্টা এবং সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ। রেবেকার অকাল মৃত্যুর পেছনে কারো সাথে মান অভিমানের বিষয় জড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

বেবেকার মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ছেলে বন্ধুদের সাথে প্রেমের প্রস্তাব সংক্রান্ত ম্যাসেজ আদান প্রদানের সত্যতা স্বীকার করে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন জানান বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, মরদেহের সুরতহাল পর্যবেক্ষণ ও আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। 

ফতুল্লার ভূঁইগড়ে অবস্থিত রূপায়ন গ্রুপের আবাস প্রকল্প এই রূপায়ন টাউনে ২৮টি ভবনে ৭শ’ ৮৪টি ফ্ল্যাটে প্রায় তিন হাজার মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে তিনশ’ জন হচ্ছেন বিদেশী নাগরিক। তারা নিজ কর্মস্থলের ক্রয়কৃত ভবনে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন। 

Ads
Ads