১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস

  • ৯-Dec-২০১৯ ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
Ads

:: আব্দুস সাত্তার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা  পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয় বর্তমানের টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলা।দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ঘাটাইলে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

জানাগেছে.দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনী বিশেষ বীরত্বের অবদান রাখে এই এলাকার স্বাধীনতা অর্জনে। কাদেরিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে যমুনা নদীতে পাকিস্থানী যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করা হয়।এ সময় মুক্তিসেনারা ২১ কোটি টাকার গোলা বারুদ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কব্জা করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন দিগন্তের  সূচনা করেন। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনী গঠিত হবার পর ঘাটাইলের সব মুক্তিযোদ্ধা কাদেরিয়া বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হয়ে হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে দুর্বার লড়াই গড়ে তুলে।ঘাটাইলের মাকড়াই যুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর হাতে গুলি লাগলে তিনি আহত হন।৭ ডিসেম্বর ভুঞাপুর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় ৮ ডিসেম্বর রাত্রেই ঘাটাইলের প্রতিটি পাকিস্তানী বাহিনীর অবস্থানে একযোগে আক্রমণ করা হবে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। এই মর্মে প্রতিটি কোম্পানী ও কোম্পানী কমান্ডারদের আক্রমন স্থল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এই লক্ষ্যে ৫ হাজার মক্তিযোদ্ধাকে ৩০টি কোম্পানীতে বিভক্ত করে ৫টি মূল দলে ভাগ করে আক্রমনের স্থান নির্ধারণ করা হয়।৮ ডিসেম্বর রাত ১১টায় হামিদুল হক বেনুসহ আরও একটি কোম্পানী ঘাটাইলের রতনপুর অবস্থান নেয়। গোলাপের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে বানিয়া পাড়া সেতুর পশ্চিম পাশে তেলেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। ৯ ডিসেম্বর কাদের সিদ্দিকীর নির্দেশ অনুযায়ী ঘাটাইলের কালিদাস পাড়া, গুণগ্রাম, ঘাটাইল সদর ও বানিয়া পাড়া সেতু একযোগে আক্রমণ করা হবে। সে পকিল্পনা মোতাবেক ভোর চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত চতুর্দিক থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘাটাইল থানা আক্রমণ করেন মুক্তিবাহিনী। পরে মেজর হাবিব ভোরে বানিয়া পাড়া সেতু, মেজর মোস্তফা কালিদাস পাড়া সেতু দখল করে ঘাটাইল থানার দিকে অগ্রসর হন।

কাদের সিদ্দিকী নিজেই পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণ করেন।এ যুদ্ধে ৫০ জন পাকহানাদার নিহত ও ১৫০ জন বন্দী হয়। এই দিন সম্পূর্নরুপে ঘাটাইল থেকে হানাদার মুক্ত হয়।

Ads
Ads