লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসীরা সাবধান

  • ৫-Dec-২০১৯ ১১:০৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বিজয়ের লাল-সবুজের মাসে দেশকে নব উজ্জীবনী শক্তিতে সাজতে দেখে আনন্দিত স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভাসিত বাঙালি। রক্তের ধারায় স্নাত এর রাজপথে দীর্ঘ নয় মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও ভুলুণ্ঠিত। অথচ উন্নয়নের ধারায় চলমান এর গতিপথ রুদ্ধ করতে লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসী এক হয়ে বিভিন্ন সময়ে চালিয়েছে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন। ধূলিস্মাৎ করতে চেয়েছে এর গৌরাবজ্জ্বল ইতিহাস। কিন্তু সেই পথে পাহাড়ের মত দেয়াল তুলে দেশকে রক্ষা করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বিজয়ের মাসে তিনি আবারও দেশকে উন্নয়নের পথে অব্যাহত রাখতে লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, যারা বুকে লাল-সবুজকে ধারণ করে বেড়ে উঠেছেন এবং বেড়ে উঠছেন, তারা অবশ্যই এই আহ্বানের সঙ্গে একমত। 

বাংলাদেশের জনগণ অনেক সচেতন। তাদের চোখে ধোঁকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক দল কী চায়, কারা জ্বালাও পোড়াও করে, মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল তা মানুষ দেখেছে। জনগণের উপর আস্থা নেই বলেই পেট্রোল সন্ত্রাস করে রেডিমেইড ক্ষমতা চেয়েছিল কারা তা মানুষ জানে। বেশিদিন আগের কথা নয়, শুধু ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা, ট্রেনে আগুন, রেলপথে নাশকতা, উপাসনালয়ে হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসে ১৭২ জনের প্রাণহানি ঘটে।  একই সময়কালে আহত হয় তিন হাজার ৮৬ জন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিন হাজার ২৫২টির বেশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। ট্রেনে হামলা হয়েছিল ২৯ বার। ফলে আদালতের বিচারে সেই সব আগুন সন্ত্রাসীরা ও লুটেরারা কারাগারেই প্রায়শ্চিত্ত করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগুনসন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভাবনা, পরিকল্পনা, কৌশল, নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, বিরোধী দলের নির্বাচনে আসা না আসাসহ নানা দিক নিয়ে তৎপরতা দেখিয়েছে। তারা সৎ ও যোগ্যদের নিয়ে সংসদে এসেছেন। অথচ দেশের বিরুদ্ধে থাকায় জনগণ লুটেরাদের এদেশের সিংহাসনে বসায়নি। যদিও ক্ষমতায় আসতে না পেরে তারা নানাবিধ কালিমা লেপনের অপচেষ্টা করেছে বিশ^দরবারে। কিন্তু বিশ^দরবারও এত বোকা নয় যে সেসব গুজব ও কালিমাকে বিশ^াস করবে। 
২০১৫ এর পর নতুন সব ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারে ব্যস্ত হয় ওই বিএনপি ও জামাতের নেতারা। দেশব্যাপী জঙ্গি কার্যক্রম শুরু করেন তারা। দেশের মধ্যে আইএসকেও দেখা যায়। হলিআর্টিজানে মধ্যযুগীয় কায়দায় মানুষ হত্যা করা হয়। 

এই জঙ্গিবাদী, আগুন সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের দল গ্রেনেড হামলাকারী ও এতিমের টাকা লুটকারী। তারা ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে জনগণকে। সুদখোর ও ঘুষখোররাও যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জননিরাপত্তার প্রশ্নে,নিজের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষে এবং জাতির ভালোর জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এটা আমাদের একান্ত কর্তব্য। 

Ads
Ads