১১ বছরে প্রধানমন্ত্রীর ৪৮৬ নির্দেশ পাত্তাই দেয়নি মন্ত্রীরা!

  • ২৯-Nov-২০১৯ ০২:১২ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

ঢাকা ও এর আশপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে শহরের স্যুয়ারেজ লাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কার্যক্রম সম্বলিত একটি প্রকল্প জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (অনুশাসন) নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিলেও গত পাঁচ বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

শুধু এটি নয়, পাবলিক কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনতে ২০১৫ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও তা অন্ধকারে। প্রকল্প প্রণয়নকালে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নকাল যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে বলে ২০০৯ সালের ১৬ জুন নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিকাংশ প্রকল্পেই তা মানা হয় না।
 
তাই তো বছর না যেতেই সংশোধন করতে হচ্ছে অধিকাংশ প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে বলে ২০১০ সালের ২৭ জুলাই নির্দেশ দেন। তাও মানা হয় না। অনেক প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে সময় বৃদ্ধি করা হয় এবং এরপর ব্যয় বৃদ্ধি করে প্রকল্প সংশোধন করা হয়। এই প্রবণতা রোধ করার জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

কিন্তু এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পালন করা হয় না বলে বছর না যেতেই সংশোধন করতে হচ্ছে। এভাবে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের জন্য ২৮ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের সময় ৪৮৬টি নির্দেশ দিয়েছেন। সারা দেশে উন্নয়ন কাজের জন্য গত প্রায় ১১ বছরে ২৪৯টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব নির্দেশ দেয়া হয়। যার অধিকাংশই আলোর মুখ দেখেনি।

অনেক মন্ত্রণালয় তা মানেনি। তবে কোনো কোনো মন্ত্রণালয় কিছুটা হলেও পালন করেছে। তবে পুরোপুরি পালন করেছে এমন খুবই কম হলেও অনেকেই পালন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় এখনো পালন করেনি তাদের গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বই আকারে দেয়া হয়েছে বলে আমার সংবাদকে জানান পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন জানান। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন এটা অনুশাসন যা নির্দেশও বলা যায়। তাই এটা অবশ্যই পালন করতে হবে। যারা এখনো পালন করেনি তাদের বলা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে তা মনিটরিং করা হবে।

পরিকল্পনা সচিব আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব অনুশাসনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সব অনুশাসন যাতে বাস্তবায়ন করা হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আর পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমরা চেষ্টা করি সব সময় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন পালন করার জন্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলে থাকি। এমনকি তাদের চিঠিও দেয়া হয়। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের এই বই এখন থেকে সবাই মেনে চলবে। আর উন্নয়ন কাজের প্রক্রিয়ায় তা অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ৪৮৬ অনুশাসন
২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ১১ বছরে ২৪৯টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যয় করার জন্য এসব সভায় ২৮ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে তিন হাজার ১৮৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ হয়েছে।

এসময় উন্নয়ন কাজের গুনগতমান উন্নয়ন ও কাজের গতি বাড়াতে ৪৮৬টি অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিছিয়ে পড়া দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৮২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেন।

এভাবে প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি এক হাজার ৩২২টি প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিপিতে পাঁচ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার অনুমোদন দেন। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনগুণেরও বেশি প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকা এডিপিতে ব্যয় করার অনুমোদন দিয়েছেন।

এগুলোর মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক নামে বিভিন্ন খাতের বড় বড় প্রকল্পের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং দেখভাল করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিশেষ তদারকির উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সব অনুশাসন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তা হস্তান্তর করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে একনেকের ১০টি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিলো ২৫টি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪টি একনেকে ৫৩টি অনুশাসন, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৪ একনেকে ২৩টি, ২০১১-১২ অর্থবছরে পাঁচটি একনেকে ছয়টি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছয়টি একনেকে সাতটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪টি একনেকে ২৪টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৩টি একনেকে ৫৭টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৭টি একনেকে ৮৩টি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫টি একনেকে ৮৮টি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২২টি একনেকে ৫৮টি এবং চলতি অর্থবছরে (জুন পর্যন্ত) ১৯টি একনেক বৈঠকে ৫৮ অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো— প্রকল্প শুধু ভবন নির্মাণ, গাড়ি ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য নয়, জনসেবার জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। কিন্তু প্রায় ১১ বছর চলে গেলেও অনেক মন্ত্রণালয় এখনো এটা মানে না। কারণ প্রকল্পে আর যাই হোক গাড়িই প্রথমে কিনে নিজে ব্যবহার না করে পরিবারে দেয়া হচ্ছে।
 
২০০৯ সালের ১৬ জুনের সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নকালে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নকাল যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ মন্ত্রণালয় এটা মানে না। তাই তো বছর যেতে না যেতেই সংশোধন করতে হচ্ছে অধিকাংশ প্রকল্প।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বরে অনুশাসন ছিলো দেশের সব মহাসড়কে প্রযোজ্য স্থানে টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এটাও ১০ বছরে পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল এবং ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো— প্রকল্পের আওতায় কোনো ক্রমেই কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না। নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে নদী তীর সংরক্ষণ কাজ করতে হবে।

কিন্তু প্রায় ১০ বছরেও এটি পুরোপুরি পালন করেনি পানি সম্পদ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া ওই বছরের ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি কৃষিজমি থেকে না কেটে কাছের খাল, বিল, নদী ও ডোবা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ২০১০ সালের ২৭ জুলাইয়ে নির্দেশ ছিলো— প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। এসব এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

১০০ মিটারের বেশি সেতুর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করতে হবে বলে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ জুলাইয়ের নিদের্শ ছিলো— প্রয়োজন হলে নদী ড্রেজিং করতে হবে। ড্রেজিংয়ের মাটি ও বালু দিয়ে পাড় বাঁধাইয়ের কাজ করতে হবে। কিন্তু সেটাও পুরোপুরি মানে না মন্ত্রণালয়। তাই তো পিইসি সভায় আপত্তি করে প্রকল্পে তা যুক্ত করতে হবে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাক্ষেত্রে ২০১০ সালের ১৫ জুন নির্দেশ ছিলো— হাতিরঝিল প্রকল্পের সাথে সমন্বয় করে সেখানে একটি স্কুল স্থাপন করতে হবে। দীর্ঘ ১০ বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ২০১৩ সালের ২ জুলাইয়ের অনুশাসন ছিলো, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হোস্টেলের প্রতিতলায় কমন রান্নাঘর, ডাইনিং রুম ও লন্ড্রির ব্যবস্থা রাখতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ২০১৫ সালের ১২ মের নির্দেশ ছিলো— পাবলিক কলেজগুলোকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিএসএমএমইউ ও বারডেমের সাথে সহজ সংযোগ ও চলাচলের জন্য শাহবাগের রূপসী বাংলা হোটেলের কাছে একটি মুখ, রেডিও ভবনের কাছে আরেকটি মুখ এবং বিএসএমএমইউর কাছে আরেকটি মুখ সম্বলিত একটি আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নির্বাহী আদেশ হলেও তা আলোর মুখ দেখবে না।

কারণ জানতে চাইলে এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এটা সম্ভব নয় বলে এনওসি দেয়া হয়েছে। সড়ক বিভাগ এটা করবে। ওই বছরের ১৯ এপ্রিলে অনুশাসন ছিলো— ফুটপাতের দোকানদারদের পুনর্বাসনের জন্য সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক বাজারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া ঢাকার দুই সিটির নির্ধারিত স্থানে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসিত করতে হবে। এটাও অন্ধকারে রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিব বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। তারা যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ঢাকা ও এর আশপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত প্রসঙ্গে সচিব বলেন, কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার যার দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক যার যে অংশের কাজ তা শুরু করেছে।

ওই বছরের ১০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসরত বিহারিদের জন্য পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে বলে শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন। এটার প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার জানান।

ডে-কেয়ার সেন্টার : ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিলো— প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, গার্মেন্টে নিজ উদ্যোগে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করতে হবে। কিন্তু সেটি এখনো তেমনভাবে আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হেড অফিসে এটা চালু হলেও অন্যান্য ব্যাংক তা চালু করেনি। এছাড়া ওই বছরের ২৫ অক্টোবরে অনুশাসন ছিলো, প্রত্যেক বিভাগে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এটা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির অনুশাসন ছিলো— ছোট ছোট সড়কগুলোতে যাতে ভারী মালামালসহ বড় ট্রাক প্রবেশ করতে না পারে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি মালামাল ভর্তি কোনো ট্রাককে ছোট সড়কগুলো ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না। স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু সব জায়গায় এটা কার্যকর হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাই রাস্তা শেষ না হতেই ভেঙে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ২২ মের অনুশাসন ছিলো- অনেক প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে সময় বৃদ্ধি করা হয় এবং এরপর ব্যয় বৃদ্ধি করে প্রকল্প সংশোধন করা হয়।

এই প্রবণতা রোধ করার জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পালন করা হয় না বলে বছর না যেতেই সংশোধন করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ব্যয়, অর্থেরও অপচয় হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান।

তবে ২০০৯ সালের ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছিলেন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীসহ সব নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে তার পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এটা অনেকটা বাস্তবায়নের পথে বলে নৌ-সচিব মো. আবদুস সামাদ জানান।

এছাড়া দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে মহাসড়কের উভয়পাশে এক স্তর নিচু করে দুপাশ দিয়ে আরেকটি রাস্তা নির্মাণের অনুশাসন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ৪ আগস্টসহ বিভিন্ন সভায়। যাতে মূল রাস্তার পাশের রাস্তা দিয়ে রিকশা, ভ্যান, মানুষ এবং ধীরগতির যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। এটা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনেক মহাসড়কে চালুও হয়েছে বলে জানান সড়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এছাড়া ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো— বিদ্যুতের অপচয় রোধে ভবিষ্যতে দ্রুত প্রি-পেইড মিটার প্রবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। এটা পুরোপুরি সম্ভব না হলেও কিছু কিছু শহরের সঙ্গে গ্রামেও চালু হয়েছে।

এছাড়া বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড একীভূতকরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে বলে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। তা পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বরের অনুশাসন ছিলো— দেশের প্রতিটি জেলায় যাতে একজনও গৃহহীন, আশ্রয়হীন না থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি পত্র সব জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করতে হবে। এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অনুশাসনগুলোর মধ্যে রয়েছে— দেশব্যাপী রেলপথে বিদ্যমান সেতুর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত সমীক্ষার পর পর্যায়ক্রমে রেল সেতুগুলো মেরামত বা পুনর্বাসন, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইনস্টিটিউটে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে হবে। এটা এখনো শুরু হয়নি।

খাল ও উন্মুক্ত জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। কৃষিজমি অপচয় রোধে নতুন সড়ক নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। ঢাকা শহরের ফুটপাত রক্ষায় ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বন্ধের দিনগুলোতে নির্দিষ্ট স্থানে সাপ্তাহিক মার্কেট বসানোর দিন ধার্য করতে হবে। কর্মস্থলে পুলিশের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধিতে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের সময় অবশ্যই ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ইনহাউজ ওয়াটার রিজার্ভারের সংস্থান, শেল্টারগুলোতে সোলার প্যানেল এবং আশ্রিতদের মূল্যবান সামগ্রী রাখতে শেল্টারে স্টোর রুম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া ঢাকা শহরের সব সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে যমুনা নদীতে টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে সেতু বিভাগ থেকে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্যোগ, দেশি ফল উৎপাদন বৃদ্ধি ও গবেষণার মাধ্যমে গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গাদের জন্য প্রকল্প গ্রহণের সময় এলাকাবাসীকে সুবিধা দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাহাড় যাতে ধসে না পড়ে সেজন্য পর্যাপ্ত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণসহ পর্যাপ্ত গাছ ও ঘাস লাগাতে হবে।

পুরান ঢাকার নিমতলী ও চুড়িহাট্টা দুর্ঘটনার মতো ভবিষ্যতে যাতে কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুরান ঢাকার বিদ্যমান রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম জরুরিভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ক্রমেই কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না।

প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রিম পরিকল্পনা করতে হবে বলে গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকল্পের আওতায় প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Ads
Ads